সুনামগঞ্জ জেলার ধর্মপাশা উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সড়ক বাদশাগঞ্জ–গাছতলা মেইন রোড দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, ভাঙাচোরা অংশ, খোয়া উঠে যাওয়া এবং অসমতল রাস্তার কারণে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন হাজারো পথচারী, শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী, কৃষক এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চালকরা।
এ সড়কটি বাদশাগঞ্জ বাজারের সঙ্গে গাছতলা ও আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত শত শত মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, ভ্যান, পিকআপ, ট্রাক এবং অন্যান্য যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন যেন দুর্ভোগের আরেক নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার বিভিন্ন অংশে অসংখ্য বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে ইট ও খোয়া বের হয়ে এসেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তগুলো পানিতে ভরে যায়। ফলে চালকরা বুঝতে পারেন না কোথায় রাস্তা আর কোথায় গর্ত। এতে প্রায়ই মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অনেকেই আহত হচ্ছেন এবং যানবাহনেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করলেও ভাঙা রাস্তার কারণে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। অনেক সময় জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বিলম্ব হচ্ছে, যা উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে অনেক পরিবহন এ সড়কে চলাচল করতে অনীহা প্রকাশ করছে। ফলে পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার সংস্কারের দাবি জানানো হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। মাঝে মাঝে ছোটখাটো মেরামত করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। তাই তারা টেকসইভাবে সড়কটির পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, বাদশাগঞ্জ–গাছতলা মেইন রোডটি শুধু একটি সড়ক নয়, এটি হাজারো মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই দ্রুত প্রকৌশলগত মান বজায় রেখে রাস্তার সংস্কারকাজ শুরু করা জরুরি। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে যাবে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে।
এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং জনপ্রতিনিধিদের প্রতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটির স্থায়ী সংস্কার করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন।