এসপি কার্যালয়ের পেছনের সড়কেই জলাবদ্ধতা, সামান্য বৃষ্টিতে পানির নিচে রাস্তা

লেখক: আল-মামুন খান, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬

কিশোরগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের ঠিক পেছনের সড়ক। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। অথচ সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটির চিত্র বদলে যায়। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় রাস্তাজুড়ে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের পাশের ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে আছে। ফলে বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হতে না পেরে সড়কের ওপর জমে থাকে। বৃষ্টির পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানি জমে থাকায় পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ে, পাশাপাশি যান চলাচলেও সৃষ্টি হয় ভোগান্তি।

সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হলো—সড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কার্যালয়ের ঠিক পেছনে অবস্থিত। সেখানে নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সাধারণ মানুষের যাতায়াত থাকলেও ড্রেন পরিষ্কার ও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, জলাবদ্ধতার মূল কারণ খুঁজতে বড় কোনো প্রকল্পের প্রয়োজন নেই। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং পানি নিষ্কাশনের পথ সচল রাখলেই অনেকটা সমাধান সম্ভব। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও নিয়মিত পরিচর্যার অভাবেই সামান্য বৃষ্টিতে সড়কটি পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।

এ নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন—পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি স্থাপনের পেছনের সড়কের এমন অবস্থা হলে শহর বা এলাকার অন্যান্য সড়কের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অবস্থা কী?

তাদের দাবি, দ্রুত ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সচল করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে ময়লা-আবর্জনায় ড্রেন বন্ধ না হয়, সে জন্য নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

সামান্য বৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া শুধু জনদুর্ভোগের বিষয় নয়; এটি সংশ্লিষ্ট এলাকার পানি নিষ্কাশন ও নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতারও একটি দৃশ্যমান চিত্র। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বর্ষা মৌসুমে এ দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।