রাজশাহী চন্দ্রিমা থানায় মাদক ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধের দাবিতে এলাকাবাসীর স্মারকলিপি

লেখক: হাসেম চন্দ্রিমা ( রাজশাহী) প্রতিনিধি।
প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

রাজশাহী​রাজশাহী নগরীর চন্দ্রিমা থানা এলাকায় মাদকের অবৈধ ক্রয়-বিক্রয়, সেবন এবং কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধমূলক তৎপরতা বন্ধের দাবিতে চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন সর্বস্তরের এলাকাবাসী। ​রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে এই স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে এলাকাবাসী উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন যাবৎ চন্দ্রিমা থানা এলাকায় মাদকের প্রকাশ্য কেনাবেচা ও সেবন চলে আসছে। একই সাথে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও তরুণদের একটি অংশ সংঘবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যার ফলে পুরো এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ​এলাকাবাসীর পক্ষে আবেদনে জানানো হয়, কিশোররা রাতে বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধ হয়ে আড্ডা দেওয়া, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, মারামারি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। এতে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও জননিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ​অপরাধ প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্মারকলিপিতে ৭ দফা প্রস্তাব ও দাবি উত্থাপন করা হয়: ​১. চন্দ্রিমা থানা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ, জনবহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে পুলিশি টহল জোরদার করা, বিশেষ করে রাতের বেলায় টহল বৃদ্ধি করা।২. রাতে অপ্রয়োজনে অলিগলিতে অবস্থানরত কিশোরদের ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও অভিভাবকদের অবহিত করে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা।৩. মাদক স্পট ও ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা এবং চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া।৪. কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ রোধে নজরদারি বাড়ানো এবং তাদের মাধ্যমে পরিচালিত অপতৎপরতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ।৫. মাদক ও কিশোর অপরাধের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এলাকায় মাইকিং ও সামাজিক প্রচার-প্রচারণা চালানো।৬. শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।৭. এলাকাবাসীর দেয়া তথ্য ও অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ​স্মারকলিপিতে এলাকাবাসী সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, তারা কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি বা কিশোরকে হয়রানি করতে চান না। বরং প্রকৃত অপরাধী ও মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে আইনি প্রক্রিয়ায় এনে একটি নিরাপদ, সুস্থ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করাই তাদের মূল লক্ষ্য। ​এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন চন্দ্রিমা থানা এলাকার বাসিন্দারা।