মৎস্য চাষের ট্রেড লাইসেন্সের আড়ালে ডলার লেনদেনের অভিযোগ কাতারপ্রবাসীর বিরুদ্ধেবেগমগঞ্জে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসার অভিযোগ, অস্বীকার মহিউদ্দিনের

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক নোয়াখালী।
প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় মৎস্য চাষের ট্রেড লাইসেন্সের আড়ালে অনলাইনে মার্কিন ডলার কেনাবেচা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে কাতারপ্রবাসী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মহিউদ্দিন উপজেলার ঘটলা গ্রামের আবু তাহের ও জিন্নত আরার ছেলে। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন তিনি।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মৎস্য চাষের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার পরিচয় দিলেও মহিউদ্দিন অনলাইনে বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে কাতারে অবস্থান করে তিনি এসব কার্যক্রম চালাচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।অভিযোগের পক্ষে মহিউদ্দিনের নামে ব্যবহৃত একটি হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে মার্কিন ডলার (USD) ক্রয়-বিক্রয়ের বিজ্ঞাপন প্রচারের পাশাপাশি নিজেকে ‘প্রফেশনাল মার্চেন্ট’ হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তবে অ্যাকাউন্টটির মালিকানা এবং প্রকৃত লেনদেনের বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।এ ছাড়া অনলাইনভিত্তিক এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। যদিও রাজস্ব ফাঁকির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ কিংবা কোনো অবৈধ লেনদেনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।এ বিষয়ে মহিউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি কোনো ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসা করি না এবং আমার কোনো কারেন্ট অ্যাকাউন্টও নেই। আমি ২০১৮ সাল থেকে মাছের পোনা উৎপাদন ও সরবরাহের ব্যবসা করে আসছি। এসবের সঙ্গে আমি জড়িত নই।’এদিকে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, অবৈধ বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন কিংবা রাজস্ব ফাঁকির মতো কর্মকাণ্ড দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।তাঁরা বলেন, কেউ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা চিহ্নিত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে নির্দোষ কোনো ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ অনুসন্ধানের মাধ্যমেই মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।