নোয়াখালীতে ৫ বছর পর মামলায় খালাস, বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল যুবকের

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৫

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর কবিরহাটে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মাদক মামলায় দীর্ঘ পাঁচ বছর পর খালাস পাওয়া এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে কবিরহাট-বসুরহাট সড়কের ইসলামিয়া আলিয়া মাদরাসার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অটোরিকশার চালকসহ মোট ছয়জন নিহত হন।

নিহত যুবকের নাম সুলতান আহমেদ সুমন (৪২)। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাকড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চরকাকড়া গ্রামের রহমতুল্লাহ মাঝির বাড়ির শহীদ উল্যাহর ছেলে। স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েসহ পরিবারে সবাইকে রেখে গেছেন তিনি। অন্যান্য নিহতরা হলেন—অটোরিকশার চালক শাহ আলম খোকন, নোয়াখালী কলেজের শিক্ষার্থী তানিম হাসান, ছাত্রী ইসরাত জাহান, বিবি কুলসুম ও জান্নাত।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২০ সালে সুমনকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়। তিনি স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুরে আদালত থেকে খালাস পাওয়ার পর নোয়াখালীর মাইজদী থেকে বসুরহাটে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে তাদের বহনকারী অটোরিকশাকে চাপা দেয় একটি ট্রাক। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও তিনজনের মৃত্যু হয়।

চরকাকড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শেখ ফরিদ খোকন বলেন, “দীর্ঘ লড়াই শেষে সুমন আজ আদালত থেকে খালাস পান। পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে রওনা দিয়েছিলেন, কিন্তু ভাগ্য যেন লিখে রেখেছিল অন্য রায়। তার জীবনের গল্পটা যেন সিনেমার মতো করুণ সমাপ্তি পেল।”

সুমনের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহেদুর রহমান তুহিন বলেন, “মামলায় জড়িয়ে সুমন দীর্ঘদিন ভীষণ কষ্ট পেয়েছেন। খালাস পেলেও তিনি আর জীবিত ফিরলেন না। এটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া জানান, নিহতদের সবাই কোম্পানীগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। “ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান, পরে হাসপাতালে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। গাড়ি দুটি জব্দ করা হয়েছে, তবে ট্রাকচালক পালিয়ে গেছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”

মামলার রায়ে মুক্তি পেলেও মৃত্যুর রায় থেকে রক্ষা পাননি সুলতান আহমেদ সুমন—এ কথাই এখন উচ্চারিত হচ্ছে শোকাহত পরিবার ও এলাকাবাসীর মুখে।