মোহনগঞ্জ থেকে ধর্মপাশা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে। হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের এ দাবি বাস্তবায়ন হলে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের মতে, মোহনগঞ্জ ও ধর্মপাশা শুধু দুটি জনপদের নাম নয়, বরং এটি হাওরাঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবন, জীবিকা, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক এলাকা। এ অঞ্চলে একটি আধুনিক রেললাইন গড়ে উঠলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হবে, সময় ও খরচ কমবে এবং দুর্গম হাওরাঞ্চলও দেশের মূল যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, বর্তমানে শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে মোহনগঞ্জ–ধর্মপাশা অঞ্চলের মানুষকে নানা ধরনের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে হাওরাঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও জটিল হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে রেললাইন নির্মাণ হলে মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, এই রেললাইন শুধু যাত্রী পরিবহনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পর্যটন খাতের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। হাওরাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে এটি হতে পারে এক গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত পদক্ষেপ।
তারা আরও বলেন, মোহনগঞ্জ থেকে ধর্মপাশা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ হলে শুধু দুটি এলাকার মানুষেরই নয়, আশপাশের আরও বহু গ্রামের মানুষ উপকৃত হবেন। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে হাওরাঞ্চলের মানুষ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে আরও সহজে যুক্ত হতে পারবেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সম্ভাব্যতা যাচাই, পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নমূলক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, জনস্বার্থে এ দাবি আর উপেক্ষিত থাকবে না এবং শিগগিরই মোহনগঞ্জ থেকে ধর্মপাশা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সবমিলিয়ে, মোহনগঞ্জ থেকে ধর্মপাশা পর্যন্ত রেললাইন আনার দাবি এখন হাওরবাসীর প্রাণের দাবি। এলাকাবাসীর আশা, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবে।