কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় এক প্রবাসীর পরিবারের চলাচলের পথ ও সরকারি খাসজমি নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় যুবদল নেতা মো. নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সালিশের সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জায়গায় ঘর নির্মাণ এবং খাল ভরাট করে দোকান নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার বিরোধপূর্ণ জায়গায় পিলার স্থাপনের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাইঘর মৌজায় সৌদি আরবপ্রবাসী আজাদ হোসেনের পরিবারের বাড়ি ও চলাচলের পথ নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, সরকারি রাস্তা না থাকায় তাঁদের বাড়ির সঙ্গে সংলগ্ন সরকারি খাসজমির ওপর দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করতে হয়। এ ছাড়া ওই এলাকায় খাল ও খাসজমির সীমানা নিয়েও বিরোধ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
এ ঘটনায় প্রবাসীর ভাই মো. কামাল হোসেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এস.এ শাখা থেকে গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ০৫.২০.১৯০০.০১৬.৮১.০০১.২৬-১২০২ স্মারকে আবেদনটি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর পাঠানো হয়।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আবেদনকারী নাইঘর মৌজার ৪২১ নম্বর দাগের পূর্বাংশে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। সরকারি রাস্তা না থাকায় বাড়ির সংলগ্ন খাস ৪২৩ নম্বর দাগে বিদ্যমান খালের পশ্চিমাংশ দিয়ে তাঁরা চলাচল করেন। ওই খালের পশ্চিমাংশ দিয়ে চলাচলের অনুমতি চেয়ে তিনি আবেদন করেছেন। চিঠিতে সরেজমিন তদন্তপূর্বক বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) অনুরোধ জানানো হয়।
এদিকে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিরোধপূর্ণ জায়গায় পিলার স্থাপনের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনী ইসলাম তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যান। তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে নাজমুল হাসানকে পিলার স্থাপনসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনী ইসলাম বলেন, জায়গাটিতে পিলার স্থাপনের খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যান এবং নাজমুল হাসানকে কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। যেহেতু বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ রয়েছে, তাই আগামী রোববার একজন সার্ভেয়ার পাঠিয়ে জায়গাটি মাপজোখ করা হবে। জায়গাটি খাসজমি বা খালের মধ্যে পড়েছে, নাকি কারও ব্যক্তিগত জায়গা খালের মধ্যে চলে গেছে, তা সরেজমিনে যাচাই করে দেখা হবে। মাপজোখ ও যাচাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত পিলার স্থাপনসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সরেজমিন তদন্ত এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে মাপজোখের মাধ্যমে জায়গার প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি খাসজমি ও খালের জায়গা সংরক্ষণ এবং প্রবাসীর পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথের বিষয়ে আইনানুগ সমাধান নিশ্চিত করবে প্রশাসন।