সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার নওধার সেভেন সাইড ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।রবিবার (৮ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার নওধার গ্রামের পূর্ব পাশের সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পাইকুরাটি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, এলাকাবাসী এবং সচেতন ক্রীড়াপ্রেমীদের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ অংশ নেন।মানববন্ধনে বক্তব্য দেন গ্রামের মাতব্বর শফিক উদ্দিন, ফখর উদ্দিন, বিএনপি কর্মী নূরুল আমিন, ছাত্রদল কর্মী মোহাম্মদ আলী, কলেজছাত্র বায়েজীদ মিয়াসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।স্থানীয় বাসিন্দা ও টুর্নামেন্ট আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, পাইকুরাটি ইউনিয়নের নওধার দক্ষিণপাড়া গ্রামের মাঠে স্থানীয় তরুণদের উদ্যোগে গত ১৬ অক্টোবর এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পাইকুরাটি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি অনিক তালুকদারসহ কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টায় টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা হওয়ার কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। আয়োজকদের অভিযোগ, টুর্নামেন্টটি আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে এবং ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে—এমন প্রচারণার কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়।আয়োজকদের দাবি, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁদের থানায় যেতে বলা হয়। পরে আয়োজক কমিটির চার সদস্য ধর্মপাশা থানায় গেলে পুলিশের এএসআই নূরুল আমিন তাঁদের জানান, টুর্নামেন্টটি আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে মর্মে ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ রয়েছে। এ সময় পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক খেলা আয়োজনের বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করলে ফাইনাল আয়োজন করা সম্ভব হতে পারে বলেও জানানো হয় বলে দাবি তাঁদের।এ বিষয়ে পাইকুরাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ উল্ল্যাহ বলেন, তাঁকে ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদককে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি টুর্নামেন্টটি আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা শুনেছেন, তবে ফাইনাল খেলা আয়োজনে তাঁরা কাউকে বাধা দেননি।ধর্মপাশা থানার এএসআই নূরুল আমিন বলেন, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে টুর্নামেন্টটি আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে এবং সেখানে সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন। তবে তিনি কাউকে ফাইনাল খেলা বন্ধ রাখতে বলেননি। এমন অভিযোগ সত্য নয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে।ধর্মপাশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমরা খেলাধুলায় কাউকে নিরুৎসাহিত করি না। তবে এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।