১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়া দেশে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে গেছেন

কক্সবাজার প্রতিনিধি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান বলেছেন, আমাদের বাংলাদেশের জন্ম- সৃষ্টি এবং তার পিছনে জিয়াউর রহমানের যে চিন্তাধারা ছিল সেটাই তাঁর উপর দায়িত্ব হিসেবে অর্পিত হয়েছে। তিনি দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে টেনে তুলে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছেন।

তিনি বলেন, আমরা চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষে দেখেছি রেশন কার্ডের জন্য রোদের মধ্যে দীর্ঘলাইন দিয়ে সামান্য কিছু চাল, ডাল, চিনি এবং তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে। দুমুঠো খাবার জোগাড় করা খুব কঠিন হয়ে গিয়েছিল সে সময়।

তাঁর ভাষায়, সে সময় আওয়ামী লীগের নেতারা- মন্ত্রীরা দুর্নীতি করেছেন। তারা ত্রাণের টাকা, কম্বলের টাকা এমন কোন টাকা নেই যাতে তারা দুর্নীতি করেনি।

তিনি বলেন, আমাদের প্রেক্ষাপটটা বুঝতে হবে জিয়াউর রহমান কি ধরনের নেতা ছিলেন। একজন সৈনিক হয়েও কি পরিমাণ বাংলাদেশি প্রেমিক ছিলেন। তিনি জাতীয়তাবাদী দলের, বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে গেছেন।

তিনি বুধবার (৩ জুন) দুপুরে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

কক্সবাজার শহরের একটি কনভেনশন সেন্টারে এ সভার আয়োজন করেন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান। এতে কক্সবাজার জেলার বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আখতারুল আলম আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।

ইঞ্জিনিয়ার সহিদুজ্জামান বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই জানেন পশ্চিমবঙ্গে ভারতের বিজেপি সরকার আসার পর ইদানিং কী ঘটছে। সেখান থেকে বাংলাদেশি বলে এখন অলরেডি পুশিইন শুরু করেছে।

তিনি বলেন, তাহলে বুঝেন জিয়াউর রহমান কত দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ছিলেন। তখন থেকেই বাঙালি জাতীয়তাবাদ না বলে উনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বলেছেন।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওনাকে নাকি ইন্ডিয়ান সেনাবাহিনী প্রধান অথবা সেই পর্যায়ের একজন বলেছিলেন, আচ্ছা বাংলাদেশকে তো ভারত চাইলে কয়েক ঘণ্টার ভিতরে দখল করে ফেলতে পারে। উনি (জিয়াউর রহমান) বলেছিলেন, তোমরা বাংলাদেশ দখল করতে করতে তোমাদের কিন্তু ছয়টা জায়গা হাতছাড়া হয়ে যাবে। কত বড় সাহসী লোক, চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারতেন, কাউকে ভয় পেতেন না।

সহিদুজ্জামানের ভাষায়, ওনি (জিয়াউর রহমান) একটা প্লাটফর্ম বানাতে চেয়েছিলেন, যেটা দিয়ে এ এশিয়ান রাষ্ট্র গুলি সারা পৃথিবীর বুকে শক্ত মর্যাদার সাথে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। উনি কিন্তু একতাই চেয়েছিলেন ঘুরে ফিরে।

জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শওকত আলম শওকতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী, জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক আকতার উদ্দিন চৌধুরী, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস্তাফিজুর রহমান, জেলা যুবদল সভাপতি এডভোকেট সৈয়দ আহমেদ উজ্জ্বল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ ইউনুছ, রামু উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কাজী শহিদুল্লাহ সিকদার, জেলা কৃষক দল সভাপতি গিয়াস উদ্দিন আফসেল, জেলা মৎস্যজীবী দল সভাপতি মোস্তফা কামাল, শাহাব উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় পোস্ট

দুই বছরের ভালোবাসা, বিয়ের পরও হলো না সংসার অসমাপ্ত রয়ে গেল সফর-সেলিনার গল্প

জিয়া দেশে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে গেছেন

আপডেট সময়: ০৯:৫৯:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

কক্সবাজার প্রতিনিধি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান বলেছেন, আমাদের বাংলাদেশের জন্ম- সৃষ্টি এবং তার পিছনে জিয়াউর রহমানের যে চিন্তাধারা ছিল সেটাই তাঁর উপর দায়িত্ব হিসেবে অর্পিত হয়েছে। তিনি দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে টেনে তুলে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছেন।

তিনি বলেন, আমরা চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষে দেখেছি রেশন কার্ডের জন্য রোদের মধ্যে দীর্ঘলাইন দিয়ে সামান্য কিছু চাল, ডাল, চিনি এবং তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে। দুমুঠো খাবার জোগাড় করা খুব কঠিন হয়ে গিয়েছিল সে সময়।

তাঁর ভাষায়, সে সময় আওয়ামী লীগের নেতারা- মন্ত্রীরা দুর্নীতি করেছেন। তারা ত্রাণের টাকা, কম্বলের টাকা এমন কোন টাকা নেই যাতে তারা দুর্নীতি করেনি।

তিনি বলেন, আমাদের প্রেক্ষাপটটা বুঝতে হবে জিয়াউর রহমান কি ধরনের নেতা ছিলেন। একজন সৈনিক হয়েও কি পরিমাণ বাংলাদেশি প্রেমিক ছিলেন। তিনি জাতীয়তাবাদী দলের, বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে গেছেন।

তিনি বুধবার (৩ জুন) দুপুরে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

কক্সবাজার শহরের একটি কনভেনশন সেন্টারে এ সভার আয়োজন করেন ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান। এতে কক্সবাজার জেলার বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী অংশগ্রহণ করেন। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আখতারুল আলম আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।

ইঞ্জিনিয়ার সহিদুজ্জামান বলেন, আপনারা নিশ্চয়ই জানেন পশ্চিমবঙ্গে ভারতের বিজেপি সরকার আসার পর ইদানিং কী ঘটছে। সেখান থেকে বাংলাদেশি বলে এখন অলরেডি পুশিইন শুরু করেছে।

তিনি বলেন, তাহলে বুঝেন জিয়াউর রহমান কত দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ছিলেন। তখন থেকেই বাঙালি জাতীয়তাবাদ না বলে উনি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ বলেছেন।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওনাকে নাকি ইন্ডিয়ান সেনাবাহিনী প্রধান অথবা সেই পর্যায়ের একজন বলেছিলেন, আচ্ছা বাংলাদেশকে তো ভারত চাইলে কয়েক ঘণ্টার ভিতরে দখল করে ফেলতে পারে। উনি (জিয়াউর রহমান) বলেছিলেন, তোমরা বাংলাদেশ দখল করতে করতে তোমাদের কিন্তু ছয়টা জায়গা হাতছাড়া হয়ে যাবে। কত বড় সাহসী লোক, চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারতেন, কাউকে ভয় পেতেন না।

সহিদুজ্জামানের ভাষায়, ওনি (জিয়াউর রহমান) একটা প্লাটফর্ম বানাতে চেয়েছিলেন, যেটা দিয়ে এ এশিয়ান রাষ্ট্র গুলি সারা পৃথিবীর বুকে শক্ত মর্যাদার সাথে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। উনি কিন্তু একতাই চেয়েছিলেন ঘুরে ফিরে।

জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শওকত আলম শওকতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরী, জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক আকতার উদ্দিন চৌধুরী, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস্তাফিজুর রহমান, জেলা যুবদল সভাপতি এডভোকেট সৈয়দ আহমেদ উজ্জ্বল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি এডভোকেট মোহাম্মদ ইউনুছ, রামু উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি কাজী শহিদুল্লাহ সিকদার, জেলা কৃষক দল সভাপতি গিয়াস উদ্দিন আফসেল, জেলা মৎস্যজীবী দল সভাপতি মোস্তফা কামাল, শাহাব উদ্দিন চৌধুরী প্রমুখ।