কালিয়াকৈরে ২৫ বছর পর বিদ্যুতের আলো,অন্ধ-প্রতিবন্ধী,খেটে খাওয়া মানুষের পাশে এমপি মজিবুর

লেখক: মোঃ মান্নান কালিয়াকৈর(গাজীপুর) প্রতিনিধি।
প্রকাশ: September 11, 2026

সংসদ সদস্য হওয়ার পর অনেক জনপ্রতিনিধির চারপাশে তৈরি হয় আনুষ্ঠানিকতার দেয়াল। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যান তারা। তবে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান এর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কালিয়াকৈর উপজেলার হাটবাজার, কারখানা, চায়ের দোকান ও সাধারণ মানুষের বাড়িতে ছুটে যাচ্ছেন তিনি।তারই ধারাবাহিকতায় ডিজিটাল যুগেও অন্ধকারে থাকা কালিয়াকৈরের অন্ধটেক এলাকার ৪৫টি পরিবার ২৫ বছর পর বিদ্যুতের সংযোগ পেয়েছে এমপির হস্তক্ষেপে।কালিয়াকৈর উপজেলার অন্ধটেক এলাকায় দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। এই এলাকায় অনেক অন্ধ ও প্রতিবন্ধী মানুষ বসবাস করেন। ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগেও তারা ছিলেন আলো-বিমুখ।এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও কষ্টের কথা শুনে গাজীপুর-১ আসনের এমপি মজিবুর রহমান উদ্যোগ নেন। তার হস্তক্ষেপে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দ্রুত ৪৫টি পরিবারে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়।অন্ধটেকের বাসিন্দা মোঃ জামাল আবেগে কেঁদে বলেন,২৫ বছর ধরে কুপি-হারিকেন জ্বালিয়ে রাত কাটিয়েছি। আমার ঘরে একজন অন্ধ মেয়ে আছে। এমপি সাহেব এসে আমাদের কথা শুনেছেন। আজ আমাদের ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলছে। এটা আমাদের কাছে স্বপ্নের মতো। এমপি সাহেবকে আল্লাহ দীর্ঘজীবী করুন।স্থানীয়রা বলেন, আমরা ভাবতেই পারিনি আমাদের বাড়িতেও বিদ্যুতের লাইন আসবে। এমপি সাহেব নিজে খোঁজ নিয়ে আমাদের সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন।বিদ্যুৎ সংযোগের পাশাপাশি এমপি মজিবুর রহমানকে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে সাধারণ মানুষের পাশে।সরেজমিনে দেখা যায়, কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ডের এক চায়ের দোকানে বসে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলছেন এমপি। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা ভ্যান-অটোরিকশা চালকদের সমস্যার কথা শুনছেন মনোযোগ দিয়ে।সফিপুর চা বিক্রেতা রফিক মিয়া বলেন, এমপি সাহেব আমাদের দোকানে এসে চা খেয়েছেন। আমাদের ব্যবসার কথা, সংসারের কথা জিজ্ঞেস করেছেন। বড় মানুষ হয়ে আমাদের মতো গরিবের কাছে আসেন, এটাই আমাদের জন্য বড় পাওয়া। তিনি শুধু বড়লোকের এমপি না, আমাদেরও এমপি।কালিয়াকৈর শিল্পাঞ্চলের গার্মেন্টস শ্রমিক সালমা আক্তার বলেন,আমরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ফ্যাক্টরিতে কাজ করি। সংসার চালাতে হিমশিম খাই। এমপি সাহেব কারখানার গেটে এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমাদের বেতন-বোনাস ও নিরাপত্তার কথা জিজ্ঞেস করেছেন। এতে মনে সাহস পাই। দিনমজুর আব্দুল কুদ্দুসবলেন,রোদে-বৃষ্টিতে কাজ করে পেট চালাই। আমাদের কষ্ট কেউ বোঝে না। কিন্তু এমপি সাহেব নিজে এসে আমাদের কাজের জায়গায় দাঁড়িয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, তোমাদের পাশে আছি। এ কথা শুনে বুক ভরে যায়।জনসম্পৃক্ততা শুধু রাস্তা-বাজারে সীমাবদ্ধ নেই। কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েও রোগীদের খোঁজখবর নেন তিনি।চিকিৎসাধীন রোগী আনোয়ার হোসেনবলেন,হাসপাতালের বেডে শুয়ে ছিলাম। এমপি সাহেব এসে মাথায় হাত রেখে বললেন, চিকিৎসার কোনো সমস্যা আছে কিনা। একজন এমপি যখন অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ান, তখন সত্যিই সাহস লাগে।এ বিষয়ে গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান বলেন, জনপ্রতিনিধিত্ব কোনো ক্ষমতার বিষয় নয়,এটি জনগণের আমানত ও দায়িত্ব। কালিয়াকৈরের খেটে খাওয়া মানুষ আমাকে যে আস্থা ও ভালোবাসা দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছেন, সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষায় আমি সর্বাত্মকভাবে কাজ করতে চাই।তিনি আরও বলেন, অন্ধটেকের ৪৫টি পরিবার ২৫ বছর ধরে বিদ্যুৎবিহীন ছিল। এটা আমার কাছে অত্যন্ত কষ্টের ছিল। আমি পল্লী বিদ্যুতের সাথে কথা বলে দ্রুত তাদের সংযোগের ব্যবস্থা করেছি। আমার প্রধান লক্ষ্য কালিয়াকৈরের মানুষের জীবনমানের টেকসই উন্নয়ন। এখানকার শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ, যাতায়াতের জন্য ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কের উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো আধুনিকীকরণ এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমার অগ্রাধিকার।এম পি আরো বলেনকালিয়াকৈরকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে প্রশাসন, শিক্ষক, ইমাম, তরুণ সমাজসহ সবাইকে নিয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, উন্নয়ন শুধু ব্রিজ-কালভার্টে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাই প্রকৃত উন্নয়ন। জনগণের পাশে থেকে সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাব।কালিয়াকৈর উপজেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা বলেন,এমপি সাহেব নিয়মিত এলাকায় আসেন। মানুষের সমস্যা সরাসরি শোনেন। অন্ধটেকের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধান তার বড় উদাহরণ।রাজনীতিতে জনপ্রতিনিধিত্বের সবচেয়ে বড় জায়গা জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের পাশে থাকা, তাদের কথা শোনাই একজন জনপ্রতিনিধির আসল দায়িত্ব। সেই জায়গা থেকেই এমপি মজিবুর রহমানের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক।চা বিক্রেতা রফিক, শ্রমিক সালমা, দিনমজুর কুদ্দুস কিংবা অন্ধটেকের মোঃ জামাল—সমাজের এই মানুষগুলোর কাছে পদ-পদবি নয়, বরং একজন জনপ্রতিনিধির কয়েক মিনিট সময়, আন্তরিক কথা ও পাশে থাকার আশ্বাসই বড় হয়ে ওঠে।