নিজস্ব প্রতিবেদক। ঢাকা, ৩১ জুলাই ২০২৫:
অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের আড়ালে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে বেক্সিমকো গ্রুপের কর্পোরেট গ্যারান্টিড সহযোগী প্রতিষ্ঠান Autumn Loop Apparels Limited-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াসিউর রহমানকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের তত্ত্বাবধানে, পুলিশ পরিদর্শক মো. ছায়েদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার ঢাকার মধ্যবাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, জনতা ব্যাংকের লোকাল অফিস শাখা (১, দিলকুশা, মতিঝিল, ঢাকা) থেকে Autumn Loop Apparels Ltd. তিনটি এলসি (LC)/সেলস কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পণ্য রপ্তানি করে।
তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন (FE 1/77-BB, তারিখ: ১৬ এপ্রিল ১৯৭৭, Appendix 3/5) অনুযায়ী, রপ্তানির চার মাসের মধ্যে রপ্তানিমূল্য দেশে ফেরত আনার বাধ্যবাধকতা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি তা করেনি। ফলে প্রতিষ্ঠানটি মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) এর ধারা ২(ক)(২) অনুযায়ী অর্থ পাচারে লিপ্ত হয়েছে বলে প্রমাণ মেলে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওয়াসিউর রহমান (৫০), পিতা এম. এ. ওয়াহিদ, মাতা বেগম নুরুন্নাহার—একজন শেয়ারহোল্ডার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে, কয়েকজন সহযোগীর সঙ্গে মিলে পরিকল্পিতভাবে প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার করেন।
এ ঘটনায় ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২)/৪ ধারায় মতিঝিল (ডিএমপি) থানায় একটি মামলা (নং: ১২) দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটে তদন্তাধীন রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত ওয়াসিউর রহমানকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে, তার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিদেশে কোনো অবৈধ সম্পদ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বেক্সিমকো গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের ভূমিকা নিয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আত্মীয়স্বজনদের নামে একাধিক প্রতিষ্ঠান খুলে অর্থ পাচারের পথ সুগম করেছেন।