বিশেষ প্রতিনিধি | রাজশাহী
সংবিধানের মৌলিক নীতিমালা ও উচ্চ আদালতের কঠোর নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাজশাহীর দুর্গাপুর ও মোহনপুর উপজেলায় তিন ফসলি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন চলছে। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। সম্প্রতি মোহনপুরে এক তরুণ নিহতের ঘটনার পর দুর্গাপুরে চারটি এক্সকাভেটরে (ভেকু) অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেও প্রশাসনের কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা না থাকায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রভাবশালী একটি চক্র জমির মালিকদের অমতে কিংবা নামমাত্র ক্ষতিপূরণ দিয়ে জোরপূর্বক ফসলি জমি দখল করে পুকুর খনন করছে।
এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটলেও অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
দুর্গাপুর ও মোহনপুরের কৃষকদের অভিযোগ, স্থানীয় ভূমি অফিস ও প্রশাসনের অভিযানগুলো কেবল ‘লোকদেখানো’। সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভিযান চালিয়ে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই পুনরায় পুরোদমে খনন শুরু হয়। কৃষকদের দাবি, প্রশাসনের কঠোর তদারকির অভাব এবং এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশেই খননকারীরা আইনকে তোয়াক্কা করছে না।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবৈধ খনন সরাসরি সংবিধানের অবমাননা।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, রাজশাহীর এই উর্বর তিন ফসলি জমিগুলো পুকুরে পরিণত হওয়ার ফলে আঞ্চলিক কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। এটি দেশের সামগ্রিক খাদ্যনিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদী হুমকি। প্রভাবশালী গডফাদারদের রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে এক্সকাভেটর জব্দ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। মোহনপুরের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার এবং দুর্গাপুরের নাশকতা রোধে পুলিশ ও প্রশাসনের সমন্বিত এবং স্বচ্ছ ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।