মেরাজুল ইসলাম,
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের তিন গ্রামে এখন শুধুই শোক আর আহাজারি। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৯ যুবককে মঙ্গলবার (২৬ মে) নিজ নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। স্বজনদের কান্না আর এলাকাবাসীর শোকে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো জনপদ।মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজেন্দ্রবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে একসঙ্গে ছয় যুবকের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাদের গ্রামের সরকারি কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে সোমবার রাত ১১টার দিকে পৃথক জানাজা শেষে আরও তিনজনকে দাফন করা হয়।শেষ বিদায় জানাতে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে হাজারো মানুষ ভিড় করেন রাজেন্দ্রবাটি গ্রামে। শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে রাজেন্দ্রবাটি, পাকুড়িয়া ও মশিদপুর গ্রাম।জানাজায় উপস্থিত ছিলেন ডা. ইকরামুল বারী টিপু, মুস্তাফিজুর রহমান, ড. আ.ন.ম বজলুর রশিদ, মোহাম্মদ শাহজাহান, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। তারা নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিহত প্রত্যেক পরিবারের জন্য নওগাঁ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রত্যেক পরিবারকে দাফনের জন্য আরও ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহতরা সবাই ফেরিওয়ালা ছিলেন। জীবিকার তাগিদে তারা দীর্ঘদিন ধরে বেগমগঞ্জ উপজেলার উত্তর নাজিরপুর কলোনিতে ভাড়া বাসায় থেকে ব্যবসা করতেন। ঈদের আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে তারা চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী একটি রডবোঝাই ট্রাকে করে বাড়ি ফিরছিলেন।পথিমধ্যে সোমবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ৯ জনই ছিলেন ভারশোঁ ইউনিয়নের বাসিন্দা।নিহতরা হলেন— রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের তারেক জিয়া (২১), আব্দুল বারিক (২০), বাদশা মিয়া (৩০), সোহাগ হোসেন (২১), রবিউল ইসলাম (২৮), সাগর হোসেন (২০), পাকুড়িয়া গ্রামের মাইনুর রহমান (২৫) ও গিয়াস উদ্দিন (২৩), এবং মশিদপুর গ্রামের মইনুল ইসলাম (৩৫)।