ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োগে মেধা-যোগ্যতা নিয়ে নাজমুল হক সজীবের প্রশ্ন

লেখক: ধর্মপাশা সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি।
প্রকাশ: August 14, 2026

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি–২০২৬-এর সুপারভাইজার নিয়োগ নিয়ে মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তরুণ উদ্যোক্তা নাজমুল হক সজীব। এ বিষয়ে নতুন করে কয়েকটি নথি সামনে এনে নিয়োগ প্রক্রিয়াটি নিরপেক্ষভাবে যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সজীবের দাবি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ফ্যামিলি কার্ড শুমারি–২০২৬-এর ফলাফলে সুপারভাইজার পদে নির্বাচিতদের তালিকায় মো. রনি মিয়া, মো. রোমান ও হাবিবুল্লাহ নাম রয়েছে। অন্যদিকে, তার কাছে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ধর্মপাশা উপজেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির একটি নথিতেও রনি মিয়া, রোমান ও এস এম হাবিব উল্লাহ নাম পাওয়া যাচ্ছে।

দুটি নথিতে নামের এই মিলের বিষয়টি তুলে ধরে নাজমুল হক সজীব প্রশ্ন করেছেন, সুপারভাইজার পদে প্রার্থী বাছাইয়ের সময় সবার শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, মৌখিক পরীক্ষার ফল ও মেধাক্রম একই মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা হয়েছিল কি না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, সুপারভাইজার পদে কয়েকজন প্রার্থীকে নির্বাচিত এবং কয়েকজনকে অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। ওই অপেক্ষমাণ তালিকায় নাজমুল হক সজীবের নামও রয়েছে।

সজীব বলেন, “আমি কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার নিয়োগ বাতিলের দাবি করছি না। আমার প্রশ্ন হলো—সব প্রার্থীকে কি একই মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা হয়েছে? যদি মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচন হয়ে থাকে, তাহলে মূল্যায়ন নম্বর, মেধাক্রম ও নির্বাচনের মানদণ্ড প্রকাশ করলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত ও অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং মূল্যায়নের নম্বর তুলনামূলকভাবে যাচাই করা হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব।

এর আগে নয়া দিগন্তের এক প্রতিবেদনে ধর্মপাশায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির কর্মী নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং যোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রার্থী বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ প্রকাশিত হয়। বঞ্চিত প্রার্থীদের পক্ষ থেকে বিতর্কিত ফলাফল বাতিল করে পুনর্মূল্যায়নের দাবির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বক্তব্য এসেছে। ফলে অভিযোগ ও প্রশাসনের বক্তব্যের মধ্যে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করতে সংশ্লিষ্ট মূল্যায়ন নথি যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

নাজমুল হক সজীবের দাবি, সুপারভাইজার পদে নির্বাচিত ও অপেক্ষমাণ সব প্রার্থীর মূল্যায়ন নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, মৌখিক পরীক্ষার ফল এবং চূড়ান্ত মেধাক্রম প্রকাশ বা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে দুটি নথিতে পাওয়া নামের মিলের বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই করুক।

তবে শুধু দুটি নথিতে নামের মিল পাওয়াকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে নিয়োগের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখছেন না সজীব। তার বক্তব্য, বিষয়টি তদন্ত ও মূল্যায়নসংক্রান্ত মূল নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া উচিত।

নাজমুল হক সজীব বলেন, “আমার দাবি কোনো ব্যক্তিকে হয়রানি করা নয়; নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে যদি নির্বাচন হয়ে থাকে, তাহলে নথিপত্র প্রকাশের মাধ্যমে সেটিই প্রমাণিত হোক।