সাঘাটায় আঙুল কর্তনের মামলার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি, আতঙ্কে পরিবার

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: June 3, 2026

মোঃ মিঠু মিয়া
গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে এক ব্যক্তির আঙুল বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী ও তার পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে বলে জানিয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গত ২৭ মে উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নের পাঁচপুর গ্রামে মুসা আলমের মালিকানাধীন জমিতে প্রতিবেশী মকবুল হোসেনের লোকজন জোরপূর্বক খড়ের পালা দেওয়ার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নিলে প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা মুসা আলমের মাথায় আঘাত করার উদ্দেশ্যে ছুরি নিয়ে হামলা করলে তিনি আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। এ সময় ছুরির আঘাতে তার হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

আহত মুসা আলম (৩৮) পাঁচপুর গ্রামের মৃত মফিজল আকন্দের ছেলে। ঘটনার পর তার স্ত্রী ডলি বেগম বাদী হয়ে সাঘাটা থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

অভিযোগ রয়েছে, মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। মামলা তুলে না নিলে প্রাণনাশসহ ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে বাদীপক্ষ।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, হামলার ঘটনায় ন্যায়বিচার চাওয়ায় তারা এখন উল্টো হুমকি ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এ অবস্থায় দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম বলেন, আঙুল কর্তনের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার পাশাপাশি হুমকির অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।