১২:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোহাগাড়ায় বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ইউএনও বায়েজীদের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

 

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বন্যার পানিতে নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলার আধুনগর, বড়হাতিয়া, পদুয়া ও আমিরাবাদ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল এখন পানির নিচে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় গ্রামের মানুষ কার্যত বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করছেন। কোথাও রিকলশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলতে পারছে না। রোগী, গর্ভবতী নারী ও বৃদ্ধদের হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, শিশুখাদ্য কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বন্যাকবলিত এলাকার অধিকাংশ পরিবার এখন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। অনেক বাড়ির রান্নাঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুদিন ধরেই রান্না করতে পারছেন না বাসিন্দারা। কেউ শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন, আবার কেউ প্রতিবেশীর উঁচু ঘরে আশ্রয় নিয়ে রান্না করছেন। অনেক পরিবারের চাল, ডাল, জ্বালানি কাঠ, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পানিতে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

বন্যাকবলিত এসব অসহায় মানুষকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ। তিনি কখনো বন্যা কবলিত স্থান পরিদর্শন আবার কখনো অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে হাজির হচ্ছেন। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিনভর উপজেলার আমিরাবাদ ও চুনতি ইউনিয়ের বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে। আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) আধুনগর ইউনিয়ের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ জানান, টানা বৃষ্টিপাত, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে। যতটুকু সম্ভব মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী থেকে শুরু করে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় পোস্ট

দুই বছরের ভালোবাসা, বিয়ের পরও হলো না সংসার অসমাপ্ত রয়ে গেল সফর-সেলিনার গল্প

লোহাগাড়ায় বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ইউএনও বায়েজীদের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

আপডেট সময়: ০১:০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

 

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় বন্যার পানিতে নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলার আধুনগর, বড়হাতিয়া, পদুয়া ও আমিরাবাদ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল এখন পানির নিচে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় গ্রামের মানুষ কার্যত বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করছেন। কোথাও রিকলশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলতে পারছে না। রোগী, গর্ভবতী নারী ও বৃদ্ধদের হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, শিশুখাদ্য কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

বন্যাকবলিত এলাকার অধিকাংশ পরিবার এখন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে। অনেক বাড়ির রান্নাঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুদিন ধরেই রান্না করতে পারছেন না বাসিন্দারা। কেউ শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন, আবার কেউ প্রতিবেশীর উঁচু ঘরে আশ্রয় নিয়ে রান্না করছেন। অনেক পরিবারের চাল, ডাল, জ্বালানি কাঠ, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পানিতে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

বন্যাকবলিত এসব অসহায় মানুষকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ। তিনি কখনো বন্যা কবলিত স্থান পরিদর্শন আবার কখনো অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে হাজির হচ্ছেন। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দিনভর উপজেলার আমিরাবাদ ও চুনতি ইউনিয়ের বন্যাকবলিত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে। আজ শুক্রবার (১০ জুলাই) আধুনগর ইউনিয়ের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ জানান, টানা বৃষ্টিপাত, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার মজুত রাখা হয়েছে। যতটুকু সম্ভব মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী থেকে শুরু করে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।