তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। ইন্টারনেটের এই যুগে সাধারণ মানুষের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করে যাচ্ছেন তরুণ উদ্যোক্তা নাজমুল হক সজীব। পেশাদার আইটি সেবার পাশাপাশি সাইবার সচেতনতা বৃদ্ধিতে তাঁর এই প্রচেষ্টা স্থানীয় পর্যায়ে বেশ নজর কেড়েছে।
নাজমুল হক সজীবের জন্ম সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের খলাপাড়া গ্রামে। তাঁর বাবা মো. মঞ্জুরুল হক। নাজমুল বর্তমানে ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়ন করছেন। এর আগে তিনি নেত্রকোনার আবু আব্বাস কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে তিনি তথ্যপ্রযুক্তির খুঁটিনাটি ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে কারিগরি দক্ষতা অর্জন করেছেন। সজীব ‘টেক ডাউন ফাইটার্স’ (টিডিএফ) নামে একটি আইটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। একজন তরুণ উদ্যোক্তা হিসেবে তিনি কেবল নিজের কর্মসংস্থানই নিশ্চিত করেননি, বরং তাঁর এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে দেশ এবং দেশের বাহিরে অবস্থানরত শতাধিক তরুণ কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটি মূলত সোশ্যাল মিডিয়া সিকিউরিটি, ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং এবং ওয়েব ডেভেলপমেন্টের মতো প্রযুক্তিগত সেবা দিয়ে থাকে।
বাণিজ্যিক কাজের বাইরেও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সাইবার অপরাধ দমনে ভূমিকা রাখছেন নাজমুল হক সজীব। বিশেষ করে অনলাইনে হ্যারাসমেন্ট বা ব্ল্যাকমেইলের শিকার ব্যক্তিদের তিনি বিনামূল্যে কারিগরি পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করেন। এছাড়া অনলাইন জুয়া ও ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জনসচেতনতা তৈরির কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
নিজের উদ্যোগ সম্পর্কে নাজমুল হক সজীব বলেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই কেবল একটি নিরাপদ ডিজিটাল সমাজ গড়া সম্ভব। সাধারণ মানুষ যাতে সাইবার অপরাধের শিকার না হয়, সেই লক্ষ্যেই আমি ও আমার দল কাজ করে যাচ্ছি। পড়াশোনার পাশাপাশি এই কাজের মাধ্যমে আমি দেশ ও মানুষের সেবা করতে চাই।
সুনামগঞ্জের মতো প্রান্তিক এলাকা থেকে উঠে এসে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সাইবার নিরাপত্তায় অবদানের জন্য সজীব এখন অনেক তরুণের কাছেই অনুপ্রেরণা। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সজীবের মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের এমন সক্রিয় অংশগ্রহণ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথকে আরও সুগম করবে।