সুনামগঞ্জের ছাতকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডর (পিডিবি’র) বিদ্যুৎ ট্রান্সফরমার স্থাপনকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগে সড়ক অবরোধ করেছে দুই গ্রামবাসী। ট্রান্সফরমার স্থাপনে চাঁদাদাবির অভিযোগে সাংবাদিক নামধারী এক দালালকে উত্তেজিত জনতা লাঞ্ছিত করেছে। প্রতিকার চেয়ে দুই গ্রামবাসীর পক্ষে সাংবাদিক নামধারীর বিরুদ্ধে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গেল সোমবার বিকেলে উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আলমপুর-মাঞ্জিহারা গ্রামে পিডিবির একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার স্থাপনের কাজ শুরু করতে আসেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ সময় আনোয়ার হোসেন রনি নামের সাংবাদিক পরিচয়ধারী ট্রান্সফরমার স্থাপনে বাঁধা দেন। স্থানীয়দের দাবি, ট্রান্সফরমার স্থাপন করতে ওই চাঁদাবাজ সাংবাদিক পরিচয়ধারী ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা আদায় করতে না পেরে ট্রান্সফরমার নিয়ে আসা বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ায় যেন ছাতক বিদ্যুৎ অফিস ওই দালাল নিয়ন্ত্রন করছেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন গোবিন্দগঞ্জ কলেজগেট এলাকায় জড়ো হন। অভিযোগ উঠেছে বিষয়টি আলোচনাক্রমে সমাধানের শেষ পর্যায়ে হঠাৎ ওই সাংবাদিক নামধারী আনোয়ার হোসেন রনি উপস্থিত হয়ে লোকজনকে গালিগালাজ ও হুমকি দিলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা তাকে ধরে লাঞ্ছিত করে। ট্রান্সফরমার স্থাপনের দাবিতে সন্ধ্যায় উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়নের আলমপুর-মাঞ্জিহারা গ্রামের কয়েকশ মানুষ সিলেট সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহা সড়কের স্থানীয় বুড়াইরগাঁও বাজার এলাকায় অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। এসময় সড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সুনামগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (ছাতক-দোয়ারাবাজার সার্কেল) শেখ মোরছালিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষুব্ধ জনতার সাথে আলোচনা করেন। তাঁর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, রাতেই আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা আবদুল আউয়াল বাদী হয়ে সাংবাদিক নামধারী ওই আনোয়ার হোসেন রনির বিরুদ্ধে ছাতক থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেন রনির বক্তব্য পাওয়া না গেলেও তিনি তার নামীয় ফেইসবুকে যা লিখেছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো। “বিদুৎ ট্রান্সফরমার নিয়ে লুকোচরি এবার ধান্দাবাজরা নিচে বক্তব্য নিজেই ফেসে যাচ্ছেন। অন্যকে ফাসাতে গিয়ে নিজেই ফেসে গেলেন। কারা গ্রামে ট্রান্সফরমার নিয়ে চাদা তোলার জন্য বৈঠক অনুষ্টিত করেন।” তার চার লাইনের স্ট্যাটার্সে একাধিক বানান ভূল। তাছাড়া শব্দগতও অনেকটা মিল নেই। অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি ছাতক থানার ওসি (তদন্ত) ঝলক মহন্ত নিশ্চিত করেছেন।