চট্টগ্রাম বন্দরের ৫০ কোটি টাকা স্টোর রেন্ট ফাঁকি: জালিয়াত চক্রের হোতা ‘মেজর’ শুভ গ্রেফতার

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: June 19, 2025

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৮ জুন ২০২৫, ঢাকা:
চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি করা যন্ত্রপাতি খালাসের নামে প্রায় ৫০ কোটি টাকার স্টোর রেন্ট ফাঁকির ঘটনায় প্রতারণা চক্রের মূলহোতা মো. তৌহিদুল ইসলাম শুভ (৩০) গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

আজ বুধবার (১৮ জুন) ঢাকার সোবহানবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। নিজেকে সেনাবাহিনীর ‘মেজর’ পরিচয় দিয়ে শুভ দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল বলে জানিয়েছে সিআইডি। গ্রেফতারকালে তার কাছ থেকে একটি ভুয়া সামরিক পরিচয়পত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, ৮টি মোবাইল ফোন, ১০টি সিমকার্ড, একটি ল্যাপটপ ও ভিজিটিং কার্ড উদ্ধার করা হয়।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, বসুন্ধরা মাল্টি স্টিল কোম্পানি লিমিটেড মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি কারখানা স্থাপনের জন্য বিশেষ সুবিধায় প্রায় ১৩৯টি কনটেইনারে যন্ত্রপাতি আমদানি করে। তবে নির্দিষ্ট সময়ে খালাস না করায় চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে তাদের ৯২ কোটি টাকার স্টোর রেন্ট বকেয়া পড়ে।

এই প্রেক্ষাপটে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে মওকুফ আবেদন করলে সেটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় প্রতারক চক্র জাল স্বাক্ষর ও নথিপত্র তৈরি করে খালাসের চেষ্টা করে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়—উক্ত কাগজপত্র ভুয়া

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এরপর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সদরঘাট থানায় একটি মামলা (মামলা নম্বর-০৭, তারিখ-১৫ মে ২০২৫) দায়ের করে। পরে মামলাটির তদন্তভার সিআইডি গ্রহণ করে এবং সাইবার পুলিশ সেন্টারের সহায়তায় শুভকে গ্রেফতার করে।

তৌহিদুল ইসলাম শুভ এর বিরুদ্ধে রাজবাড়ী ও রাজশাহীর বিভিন্ন থানায় প্রতারণার ৪টি মামলা ও ৪টি ওয়ারেন্ট রয়েছে। এর আগে এই মামলায় একই চক্রের সদস্য ফয়েজুর রহমান, মো. আমিনুল ইসলাম আমিন, মো. রনি রাজ হোসেন ও মো. আবু হানিফাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে দোষ স্বীকার করেছেন

সিআইডি জানিয়েছে, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং প্রতারক চক্রের আরও সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।