মণিরামপুরে সরকারি জমিতে মার্কেট নির্মাণ করে দোকান বরাদ্দের অভিযোগ

লেখক: প্রতিবেদক ঢাকা
প্রকাশ: June 1, 2026

মণিরামপুর প্রতিনিধি:-

আদালতের রায় ও প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সরকারি খাস জমিতে মার্কেট নির্মাণ, দোকান বরাদ্দ এবং নিয়মিত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে মণিরামপুর উপজেলার ঢাকুরিয়া এলাকার মো. শিহাব হোসেনের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ঢাকুরিয়া-ব্রহ্মপুর মৌজার বাওড়পাড় এলাকায় সরকারি জমি দখল করে একাধিক দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব দোকান মাসিক ভাড়ার ভিত্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অগ্রিম অর্থও নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, অতীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের দায়ে জরিমানা ও কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দখল কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

সাংবাদিক এস এম তাজাম্মুল সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানান, বাওড়পাড় এলাকায় মোট ১৯টি দোকানঘর নির্মিত হয়েছে। এসব দোকান থেকে মাসিক ৮০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। কয়েকজন ব্যবসায়ী অগ্রিম অর্থ প্রদান করে দোকান ব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শিহাব হোসেন ছাড়াও আরও কয়েকজন ব্যক্তি সরকারি জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করে ভোগদখল করছেন। একই মৌজার বাওড়ের উত্তরপাড় এলাকায় সরকারি জলাশয়ের অংশে মাটি ভরাট করে ব্যক্তিগত ব্যবহার উপযোগী করার অভিযোগও উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, পূর্বে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও কেন এখন পর্যন্ত অবৈধ দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাদের মতে, সরকারি সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না গেলে জনমনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পূর্বে সরেজমিনে পরিদর্শনের আশ্বাস দিয়েছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উচ্ছেদ অভিযান বা কার্যকর পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকের দাবি, সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অন্যদিকে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের দখলদারিত্ব চললেও কার্যকর প্রতিকার মিলছে না।

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সরকারি জমি উদ্ধার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।