পহেলা বৈশাখের দিনে এক কলেজ ছাত্রীকে রিসোর্টে নিয়ে বিয়ের প্রলোভনে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে রাত্রী যাপন করে প্রেমিকের চম্পট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত প্রেমিকের নাম দুর্জয় পাঠান জয় (২২)। তিনি তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ইউনুছপুর গ্রামের প্রবাসী হুমায়ুন পাঠানের ছেলে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী কলেজ ছাত্রী জানান, গত ৪ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে পার্শ্ববর্তী তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের ইউনুছপুর গ্রামের প্রবাসী হুমায়ুন পাঠানের ছেলে দুর্জয় পাঠান জয়ের সঙ্গে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং বিভিন্ন জায়গায় তারা দেখা সাক্ষাৎ করেন। গত সোমবার পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বিয়ের কথা বলে প্রথমে তাকে নিয়ে প্রেমিক দুর্জয় সুনামগঞ্জ সদরে যান। পরে এখানে বিয়ে না করে নানা অজুহাত দেখিয়ে ট্যাকেরঘাট নিলাদ্রী লেকের পাশে একটি রিসোর্টে নিয়ে আসেন। রাতে এখানে স্বামী স্ত্রী পরিচয় দিয়ে একটি রুম ভাড়া করেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার মতের বিরুদ্ধে গিয়ে তার সঙ্গে সহবাস করেন।
এক পর্যায়ে প্রেমিক দুর্জয় জোর করে তার মোবাইলে সংরক্ষিত থাকা তথ্য প্রমাণসহ যুগলবন্দী ছবি ও ভিডি ফুটেজ মুছে দেন। সকালে দুর্জয় ভগ্নিপতিকে নিয়ে এসে বিয়ে করার কথা বলে তাকে রিসোর্টে রেখেই চম্পট দেন। সারাদিন প্রেমিক দুর্জয়ের অপেক্ষায় রিসোর্টেই অবস্থান করেন কলেজ ছাত্রী। সন্ধ্যার দিকে দুর্জয়কে ফোন দিলে তিনি জানিয়ে দেন সে যেনো তার নিজ বাড়িতে ফিরে যান, না হয় তাকে প্রাণে মেরে ফেলবে। পরে কলেজ ছাত্রী কোন উপায় না পেয়ে রিসোর্ট থেকে সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেন এবং প্রেমিক দুর্জয়ের খুঁজে স্থানীয় বাদাঘাট বাজারে যান। রাত ১০ টার দিকে বাজার কমিটির সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে বিষয়টি জানান তিনি। পরে বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রেমিক দুর্জয়ের পরিবার এবং পুলিশকে ঘটনাটি অবগত করে।
কলেজ ছাত্রী বলেন, গত তিন ধরে প্রেমিক দুর্জয়ের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছে গিয়েও কোন বিচার পাচ্ছেন না তিনি। তিনি এখন এক আত্মীয়ের বাড়িতে আছেন, তারা বলেছেন রাতে তাদের বিয়ে পড়িয়ে দেবেন। তিনি বলেন, প্রেমিক দুর্জয়কে না পেলে আত্মহত্যা করবেন। অভিযুক্ত প্রেমিক দুর্জয়ের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।
বাদাঘাট বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুন উর রশিদ বলেন, কলেজ ছাত্রী রাতে এসে তাদেরকে বিষয়টি জানিয়েছে, পরে আমরা ছেলের পরিবারকে বিষয়টি অবগত করি। কিন্তু ছেলে পক্ষের লোকজন আসে নি। পরে কলেজ ছাত্রীর মা পুলিশকে জানিয়ে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যায়।
বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ নাজমুল ইসলাম বলেন, কলেজ ছাত্রী থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেন নি। কলেজ ছাত্রীর মা তাকে তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে গেছেন, পরে তিনি সবার সঙ্গে পরামর্শ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
মন্তব্য করুন