মো. মফিদুল ইসলাম সরকার
সমাজসেবা, পরিবেশ সংরক্ষণ, মানবাধিকার এবং সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে বহুমাত্রিক অবদান রেখে চলেছেন ছালমা শারমিন। তিনি একজন উদ্যোক্তা, কবি, লেখক ও সমাজকর্মী হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
পেশাগত জীবনে ছালমা শারমিন একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে টানা তিন বছর সফলতার সঙ্গে কাজ করেছেন। কর্মজীবনের পাশাপাশি তিনি পরিবেশ ও মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। পরিবেশ রক্ষা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করা সংগঠন ‘সবুজ বাংলাদেশ’-এর একজন সদস্য হিসেবে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে অংশগ্রহণ করে আসছেন।
সমাজসেবার প্রতি তাঁর আগ্রহের সূচনা কলেজ জীবন থেকেই। সে সময় তিনি রোটার্যাক্ট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বেচ্ছাসেবা এবং মানবকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে।
ছালমা শারমিনের প্রতিষ্ঠিত সমাজসেবামূলক সংগঠন ‘ইউসুফ আলী খান হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন’ এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। সংগঠনটির মাধ্যমে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং বাসস্থানের মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। মানবতার সেবায় তাঁর এই উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
শিক্ষাজীবনেও তিনি কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তিনি পাবনা জেলার আদর্শ গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে একই প্রতিষ্ঠান থেকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে বিএসএস ও এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (বিআইএম) থেকে ডিপ্লোমা ইন পারসোনেল ম্যানেজমেন্ট কোর্স সম্পন্ন করেছেন।
সাহিত্যাঙ্গনেও ছালমা শারমিন সমানভাবে সক্রিয়। কবিতা, গল্প ও প্রবন্ধের মাধ্যমে তিনি সমাজ, মানবতা এবং পরিবেশ বিষয়ক নানা বার্তা তুলে ধরেন। তাঁর লেখায় মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের আহ্বান প্রতিফলিত হয়। ২০২০ সালে প্রকাশিত ‘আমরা ৯৩’ গ্রন্থে তাঁর একটি গল্প স্থান পায়, যা অমর একুশে বইমেলায় শব্দশিল্প প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়।
সাহিত্য ও সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন। এছাড়াও কবি ও বাচিক শিল্পী হিসেবে তিনি শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক পুরস্কার অর্জন করেছেন।
তিনি জাতীয় নারী সাহিত্য পরিষদের উদ্যোক্তা বিষয়ক একজন সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সমাজ উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে তাঁর অবদান বিশেষভাবে প্রশংসিত।
ব্যক্তিগত জীবনেও ছালমা শারমিন একজন গর্বিত মা। তাঁর একমাত্র সন্তান মানসিব রাইয়ান বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন।
ছালমা শারমিন বিশ্বাস করেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করাই জীবনের অন্যতম বড় সাফল্য। সমাজসেবা, মানবাধিকার, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সাহিত্যচর্চার সমন্বয়ে তিনি নিজেকে একজন সচেতন, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর বহুমুখী কর্মকাণ্ড সমাজের তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক ও মানবকল্যাণমূলক কাজে উদ্বুদ্ধ করছে।
মন্তব্য করুন