
মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বেশ কয়েকদিন মুষলধারে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। কখনো একটানা আবার কখনো থেমে থেমে হচ্ছে এ বৃষ্টি। সাধারণ লোকজনের দুর্ভোগের অন্ত নেই। বৃহত্তর ঈদগাঁওর বেশ কিছু এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতার। কেউ ছাতা ব্যবহার করছেন, আবার কেউ পলিথিনে নিজেকে মুড়াচ্ছেন। অনেকে রেইনকোট ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় কাজে বের হচ্ছেন। পানিবন্দি হয়ে দুর্যোগ গ্রস্ত পরিবারগুলোতে রান্নাবান্না করতে বেশ অসুবিধের সৃষ্টি হচ্ছে। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে সামান্য বৃষ্টিতে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে। বিপন্ন মানুষজনের মুক্তির উপায় দেখা যাচ্ছে না। ঈদগাঁও বঙ্কিম বাজার সংলগ্ন আলমাছিয়া মাদ্রাসা সড়কের পশ্চিম পার্শ্বে প্রায় সময় জলাবদ্ধতা থাকে। উত্তর মাইজ পাড়া সড়কের হিন্দু পাড়া এবং লাইল্যার পাড়া এলাকায় সড়কে বিরাজ করতে হাটু পরিমান পানি। ঈদগাঁও বাজারের পুরনো হাসপাতাল সড়কটি কোমর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বাজারের প্রধান সড়ক ডিসি রোডের ভূমি অফিস সংলগ্ন অংশে পানি তৈরি করছে। বৃষ্টি এবং ঈদগাঁও খালের পানিতে সয়লাব হয়ে উঠেছে সর্বত্র। ঈদগাঁও ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হক সওদাগর জানান, তার বাড়ি সংলগ্ন সড়কটিতে ড্রেন না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা পানির নিচে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। এতে লোক ও যানবাহন চলাচলে চরমভাবে বিঘ্ন ঘটে। হিন্দু অধ্যুষিত এ এলাকাটিতে পানির কারণে বসবাস করা অসম্ভব হয়ে উঠেছে। লোকজন রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারছেন না। এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ বিষয়ে সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। স্থানীয় অধিবাসী মস্তুরা খানম জানান, ড্রেন না থাকায় তাদের ঘরমুখী সংযোগ সড়কটি বেশ কয়েকদিন যাবত হাঁটুপানির নিচে। ঘর থেকে তাদের বের হতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। তিনি শনিবার উক্ত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করতে আসা স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতি বিষয়টির দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এদিকে বাজার এবং ঈদগাঁও খালের পানিতে ১০-১২ দিন যাবত পানিবন্দী রয়েছেন উত্তর মাইজ পাড়ার (খোনকার পাড়া) অনেক পরিবার। কারো কারো বসতভিটা পানির নিচে। আবার কোন কোন বাড়িতে পানিও ঢুকে পড়েছে। বেহাল ও নাজুক অবস্থায় রয়েছেন উক্ত এলাকার অধিবাসীরা। না সরচে পানি, না সরচে তাদের ভোগান্তি। জমে থাকা পানির দাপটে এ এলাকায় স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছেন না কেউ। বৃষ্টি যত বেশি হচ্ছে তাদের দুর্দশা তত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে ঈদগাঁওতে টানা ভারি বৃষ্টিপাতে দুর্যোগগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। আজ দুপুরে স্থানীয় উত্তর মাইজ পাডায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ঈদগাঁও, রামু ও কক্সবাজার সদর আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। স্থানীয় বিএনপি’র উদ্যোগে এ চাউল বিতরণ কালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক সেলিম উল্লাহ মাহমুদ, সংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুচ শুকুর, আখতার উদ্দিন বাবুল, মোক্তার আহমদ, সিরাজুল ইসলাম, আবু হেনা, তৈয়ব তাহের তানভীর, আনোয়ার হোসাইন সহ অন্যান্যরা। এ সময় ২ শতাধিক মানুষকে জনপ্রতি পাঁচ কেজি করে চাউল প্রদান করা হয়। পরে সংসদ সদস্য কাজল ঈদগাঁও বাজারের হাসপাতাল সড়ক, জালালাবাদ হিন্দু পাড়ার বেড়িবাঁধ ও স্লূইচ গেটের অবস্থা পরিদর্শনে যান।
২/ছবি আছে
অবশেষে পদোন্নতি পাচ্ছেন ঈদগাঁওর ২৫ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক
কক্সবাজার প্রতিনিধি।
দীর্ঘ ১১ বছরের আইনি জটিলতা কাটিয়ে পদোন্নতির পথ খুলেছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারি শিক্ষকদের। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি হয়েছে। মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃক ২ জুলাই প্রদত্ত এক রায়ের প্রেক্ষিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য এ সুখবর এসেছে। রায়ের প্রেক্ষিতে গত ৮ জুলাই প্রজ্ঞাপনটি জারি করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। এতে পদোন্নতি যোগ্য পদে পদায়নের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রয়েছেন ২৫ জন। যারা অপেক্ষাকৃত সিনিয়র এবং তাদের পদ পদোন্নতি যোগ্য পদ। এসব সিনিয়র সহকারি শিক্ষকরা হাইকোর্টের রায়ের নির্দেশনার আলোকে এবং মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মতে পদোন্নতি পাবার সুযোগ পাচ্ছেন।
সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা সূত্রে জানা গেছে, ঈদগাঁও উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৩৯ টি। তবে রেজিস্টার্ড বা নিবন্ধিত কোন বিদ্যালয় নেই। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহের মধ্যে ৭টি বিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন প্রধান শিক্ষক, ৭টিতে চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক এবং অবশিষ্ট ২৫টিতে শূন্য পদে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। যাদেরকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা অপেক্ষাকৃত সিনিয়র এবং তাদের পদ পদোন্নতি যোগ্য বলে জানা গেছে। হাইকোর্টের রায়ের মতে উক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বৃন্দ পদোন্নতির সুযোগ পাচ্ছেন। যা দীর্ঘ ১১ বছর আইনি গ্যাড়াকলে ঝুলে থেকেছিল।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ব্যাপারে গত ৮ জুলাই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয়- ২ শাখার উপসচিব রাজীব কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অত্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহে সহকারি শিক্ষক হতে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি এবং সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
জানা গেছে, এ উপজেলার অনুকূলে ২০২৫ সালে নিয়োগকৃত ২২ জন সহকারী শিক্ষকের নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ঠিক করা হয়নি তাদের কর্মস্থলও। হাইকোর্টের রায় এবং মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন মতে এসব শিক্ষকরা চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পাবার সুযোগ পাচ্ছেন।
অথচ বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এসব শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদানের পর চূড়ান্তভাবে নিয়োগের কথা জানিয়েছিলেন। ১৩ তম গ্রেডে নিয়োগপ্রাপ্ত এসব শিক্ষকদের পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ হয়েছে এবং তারা নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইলপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জমা দিয়েছেন। এদের বেতনের হার হবে মাসিক ১১ হাজার টাকার উপরে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহে কর্মরত শিক্ষকরা জানান, ঈদগাঁও উপজেলায় দুইটি ক্লাস্টার রয়েছে। এগুলো হচ্ছে ঈদগাঁও ও মাইজ পাড়া। ঈদগাঁও উপজেলায় এখনো কোন হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে এ উপজেলায় কর্মরত শিক্ষকদেরকে ৩৫ মাইল দূরবর্তী কক্সবাজার সদর উপজেলা থেকে ইএফটির মাধ্যমে বেতন- ভাতা উত্তোলন করতে হচ্ছে।
শিক্ষকরা দুঃখের সাথে জানান, ০৯ কোডে তাদের বেতন- ভাতা উত্তোলন করতে হয়। বেতনের কোডটি ঈদগাঁও উপজেলার হলেও তারা এ উপজেলা থেকে বেতন- ভাতা উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছেন না। ঈদগাঁও উপজেলা থেকে বেতন- ভাতা উত্তোলনের কার্যক্রম চলমান এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে এ সংক্রান্ত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তারা। তারা মনে করেন, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সদয় হলে তারা স্থানীয়ভাবে বেতন- ভাতা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর থেকে জানা গেছে, বিগত সালের মাঝামাঝি সময়ে এ উপজেলায় একজন পূর্ণকালীন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিয়োগ দেয়া হয়। শিক্ষা কর্মকর্তার নাম হচ্ছে আব্দুর রহমান ভূঁইয়া। তিনি শুরু থেকে ঈদগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলায় অস্থায়ীভাবে স্থাপিত অফিসে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। একমাত্র তিনিই ঈদগাঁও উপজেলা থেকে ০৪ নং কোডে বেতন- ভাতা উত্তোলন করতে পারছেন। যা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। এ উপজেলায় অফিস সহায়কের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন আনিসুর রহমান।
দুইটি ক্লাসটার থাকলেও একজন মাত্র সহকারি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কর্মরত রয়েছেন। তাও অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে। এ কর্মকর্তার নাম আবু নছর মোহাম্মদ হাচছান। তার মূল দায়িত্ব কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে।
এদিকে এসব ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের মন্তব্য জানার জন্য তার মোবাইল ফোনে বারবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
৩/ছবি আছে
ঈদগাঁও খালে উদ্ধার ঈদগড়ের শিশু
কক্সবাজার প্রতিনিধি।
কক্সবাজারের ঈদগড় ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলের পানিতে নিখোঁজ হওয়া শিশু মো. সাজেদুল ইসলামের (১২) মরদেহ চার দিন পর উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের গজালিয়া এলাকার ঈদগাঁও খাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত সাজেদুল রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাসনাকাটা কুনা পাড়ার নুরুল ইসলামের ছেলে।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেলে সাজেদুল স্থানীয় একটি পাহাড়ি এলাকায় লাকড়ি কুড়াতে যায়। এ সময় পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে সে ঈদগড়–ঈদগাঁও খালে ভেসে নিখোঁজ হয়। ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা, স্বজন ও বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল ব্যাপক তল্লাশি চালালেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
অবশেষে শনিবার (১১ জুলাই) সকালে ঈদগাঁও উপজেলার ইসলামাবাদ ইউনিয়নের গজালিয়া চরপাড়া ভোমরিয়া ঘোনা ফরেস্ট অফিস গেট সংলগ্ন ঈদগাঁও খালে একটি ভাসমান মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। তারা মরদেহটি উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন।
উদ্ধার কাজে অংশ নেয়া স্থানীয় হেডম্যান খলিলুর রহমান বলেন, সকালে খাল পারাপারের সময় স্থানীয়রা পানিতে একটি ভাসমান মরদেহ দেখতে পান। পরে তাদের সহযোগিতায় এটি উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
চার দিন পর সন্তানের মরদেহ ফিরে পাওয়ায় স্বজনদের আহাজারিতে ঘটনাস্থলে হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কক্সবাজার প্রতিনিধি। 

















