
নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীন ধর্মপাশা থেকে গাছতলা বাজার পর্যন্ত সড়কের প্রায় ৯ কিলোমিটার অংশ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অপেক্ষায় থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, পর্যটক ও যানবাহন চালকদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।
গত বছরের ২৮ অক্টোবর সড়ক সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবিতে ধর্মপাশা-মধ্যনগর সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসী। পরে নেত্রকোনা সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামীম হোসেন ঘটনাস্থলে এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
সে সময় তিনি জানান, ধর্মপাশা থেকে গাছতলা পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের জন্য ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে এবং দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। পরে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এলাকাবাসীর সঙ্গে সওজ কর্মকর্তাদের বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শুরু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ধর্মপাশার কংস সেতুর উত্তর পাশ থেকে মধ্যনগরের পিঁপাড়াকান্দা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার করা হয়েছিল। তবে নিম্নমানের কাজের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি আবারো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। গলইখালী থেকে মধ্যনগর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সড়ক ভাঙনের কবলে পড়ে হাওরে
বেক
প্রতিশ্রুতির এক বছর পরও শুরু হয়নি কাজ
বিলীন হয়। বছর দুয়েক আগে গাছতলা বাজার থেকে মধ্যনগর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হলেও ধর্মপাশা থেকে গাছতলা পর্যন্ত বাকি অংশের কাজ হয়নি। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত থাকায় প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রীদের।
ধর্মপাশা থেকে অটোরিকশা চালিয়ে আসা এক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই রাস্তায় অটো চালাতে চালাতে হাতে ফোসকা পড়ে গেছে। স্টিয়ারিং শক্ত করে ধরে রাখতে হয়। সামান্য অসতর্ক হলেই গাড়ি উল্টে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
মোহনগঞ্জের অটোরিকশা চালক সুব্রত বলেন, এক সময় হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে এসে অনেক পর্যটক ধর্মপাশা হয়ে টাঙ্গুয়ার হাওর দেখতে যেতেন। আমরা তাদের মধ্যনগর পৌঁছে দিতাম। এখন রাস্তার অবস্থা এত খারাপ যে অধিকাংশ পর্যটক ঠাকুরাকোনা নেমে কলমাকান্দা হয়ে নৌপথে চলে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কলেজের প্রভাষক
বলেন, এই সড়ক শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি পুরো এলাকার অর্থনীতি ও শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত। প্রতিদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করেন। দ্রুত সংস্কার না হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে।
গাছতলা বাজারের ব্যবসায়ী মানিক মিয়া বলেন, খারাপ রাস্তার কারণে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। অনেক পাইকারি ব্যবসায়ী এখন এই পথে আসতে চান না। এতে স্থানীয় ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরতে আসা এক পর্যটক রেজাউল হাসান বলেন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য এই অঞ্চল বিখ্যাত। কিন্তু এমন ভাঙাচোরা সড়ক পর্যটকদের জন্য বড় বাধা। রাস্তা ভালো হলে পর্যটকের সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে।
স্থানীয় পথচারী শফিকুল ইসলাম বলেন, গত একবছর যাবত শুনে আসছি বরাদ্দ এসেছে টেন্ডার হয়েছে। কিন্তু কোনো অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না। আমরা চাই দ্রুত কাজ শুরু হোক।
নেত্রকোণা সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামীম হোসেন বলেন, যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে তাদের নাম সংযুক্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে। আরো মাসখানেক সময় লাগতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নেত্রকোণা সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে থাকা ধর্মপাশা-মধ্যনগর সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ কিলোমিটার। ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট সুনামগঞ্জ সওজের কার্যক্রম নেত্রকোণা সওজের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর থেকেই ধর্মপাশা উপজেলার সওজ-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম নেত্রকোণা থেকে পরিচালিত হচ্ছে।
অলি হাসান সৃজন সম্পাদক ও প্রকাশক 
















