চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার তরুণ মো. আকাশ বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তার এই উদ্যোগ। বেশি বেশি গাছ লাগিয়ে দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলাই তার স্বপ্ন।
মো. আকাশের ফেসবুক পেজের নাম A.K. Akash। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তিনি বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ করছেন এবং অন্যদেরও গাছ লাগাতে উৎসাহিত করছেন। তার মতে, একটি গাছ শুধু একজন মানুষের জন্য নয়, বরং পুরো সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, পরিবেশকে শীতল রাখে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বর্তমানে পরিবেশের নানা পরিবর্তন, অতিরিক্ত গাছ কাটার প্রবণতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই মো. আকাশ নিজের জায়গা থেকে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছেন। তার লক্ষ্য শুধু নিজে গাছ লাগানো নয়, বরং সমাজের আরও মানুষকে এই ভালো কাজে সম্পৃক্ত করা।
মো. আকাশ বলেন, “আমি চাই গাছ লাগিয়ে সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে। আমার এই কাজ যদি কারও ভালো লেগে থাকে, কেউ যদি আমাকে এই ধরনের কাজ আরও বেশি করতে সহযোগিতা করতে চান, তাহলে আমি আরও বেশি করে এ ধরনের কাজ করার অনুপ্রেরণা পাব। মানুষের সহযোগিতা ও উৎসাহ পেলে আমি ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ উন্নয়নের কাজ করতে চাই। সবাইকে ধন্যবাদ।”
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেকেরই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন। একটি পরিবার যদি কয়েকটি গাছ লাগায়, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যদি নিয়মিত বৃক্ষরোপণ করে এবং একটি এলাকার মানুষ যদি গাছের পরিচর্যায় সচেতন হয়, তাহলে সম্মিলিতভাবে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।
মো. আকাশের এই উদ্যোগ শুধু বৃক্ষরোপণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবেশ সচেতনতা তৈরির একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা তার। তিনি চান, তরুণ সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ পরিবেশ রক্ষার কাজে এগিয়ে আসুক এবং প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তার যত্ন নিক।
তার উদ্যোগে কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে গাছের চারা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি কিংবা প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহযোগিতার মাধ্যমে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মো. আকাশ। তার বিশ্বাস, আজকের একটি গাছই আগামী দিনের নির্মল বাতাস ও সবুজ ভবিষ্যতের ভিত্তি।
সবুজ বাংলাদেশ গড়ার এই প্রত্যয়ে মো. আকাশের পথচলা অব্যাহত থাকুক—এটাই প্রত্যাশা পরিবেশপ্রেমী মানুষের।