০৯:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবারও পাহাড়ধস: নিহত বেড়ে ৮, সবাই কন্যাশিশু

 

টানা ভারী বর্ষণের কারণে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের সবাই কন্যাশিশু। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে অবস্থিত মসজিদুল কুবা মহিলা মাদরাসা ও হেফজখানায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত উদ্ধার অভিযানে ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। আহতদের মধ্যে ৬ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিকেল ৫টার দিকে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন— রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) ও উমাইসা বিবি (১৩)। এর মধ্যে উম্মে নেজাতুল ও উম্মে সালমা আপন দুই বোন এবং তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩-এর বাসিন্দা। অপর দুইজন ক্যাম্প-৫-এর বাসিন্দা। বাকি চারজনের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন এবং সিসিসিএম স্বেচ্ছাসেবকদের যৌথ প্রচেষ্টায় উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ঘটনাস্থলে এপিবিএন সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী সব কার্যক্রম তদারকি করছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার সময় মাদরাসায় অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। অধিকাংশ শিক্ষার্থী বেরিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পাহাড়সংলগ্ন একটি কক্ষে হঠাৎ মাটি ধসে পড়লে সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন শিক্ষার্থী চাপা পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
ক্যাম্প-৫-এর বাসিন্দা মৌলভি ইউনুস জানান, মাদরাসার ছুটি হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তার দাবি, মাটি ভরাট করে নির্মিত স্থাপনাটির পাশের পাহাড় ধসে পড়ায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে ভারী বর্ষণের কারণে উখিয়ার তিনটি পৃথক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ ৮ জন নিহত হন। সব মিলিয়ে গত তিন দিনে কক্সবাজার জেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে পৌঁছেছে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় পোস্ট

দুই বছরের ভালোবাসা, বিয়ের পরও হলো না সংসার অসমাপ্ত রয়ে গেল সফর-সেলিনার গল্প

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবারও পাহাড়ধস: নিহত বেড়ে ৮, সবাই কন্যাশিশু

আপডেট সময়: ০৩:৫৫:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

 

টানা ভারী বর্ষণের কারণে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের সবাই কন্যাশিশু। বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে ক্যাম্পের এ-৩ ব্লকে অবস্থিত মসজিদুল কুবা মহিলা মাদরাসা ও হেফজখানায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত উদ্ধার অভিযানে ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। আহতদের মধ্যে ৬ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিকেল ৫টার দিকে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন— রাশিদা বেগম (১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) ও উমাইসা বিবি (১৩)। এর মধ্যে উম্মে নেজাতুল ও উম্মে সালমা আপন দুই বোন এবং তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩-এর বাসিন্দা। অপর দুইজন ক্যাম্প-৫-এর বাসিন্দা। বাকি চারজনের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন এবং সিসিসিএম স্বেচ্ছাসেবকদের যৌথ প্রচেষ্টায় উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ঘটনাস্থলে এপিবিএন সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন এবং দুর্ঘটনা-পরবর্তী সব কার্যক্রম তদারকি করছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার সময় মাদরাসায় অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। অধিকাংশ শিক্ষার্থী বেরিয়ে যেতে সক্ষম হলেও পাহাড়সংলগ্ন একটি কক্ষে হঠাৎ মাটি ধসে পড়লে সেখানে অবস্থানরত কয়েকজন শিক্ষার্থী চাপা পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়।
ক্যাম্প-৫-এর বাসিন্দা মৌলভি ইউনুস জানান, মাদরাসার ছুটি হওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তার দাবি, মাটি ভরাট করে নির্মিত স্থাপনাটির পাশের পাহাড় ধসে পড়ায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে ভারী বর্ষণের কারণে উখিয়ার তিনটি পৃথক রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ ৮ জন নিহত হন। সব মিলিয়ে গত তিন দিনে কক্সবাজার জেলায় টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২১ জনে পৌঁছেছে।