০৩:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাপাহার সীমান্তে ১৯ ঘণ্টা পর ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ বিজিবি শক্ত অবস্থানে থাকায় ভারত ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

জাহাঙ্গীর আলম মানিক
সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে তাদের আবার ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১৭ জনকে পুনরায় ভারতে নিয়ে যায়।

শনিবার (৬ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম।

এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ১৭ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে ভারতের পান্নাছড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা। প্রায় ১৯ ঘণ্টা ধরে এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কঠোর অবস্থান নেয় বিজিবি। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের কারণে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলমুডাঙ্গা গ্রামের ট্রাক্টরচালক মাহবুব আলম বলেন, “ওই ১৭ জনকে বিজিবি সদস্যরা পাহারায় রেখেছিলেন। রাত ১১টার দিকে আমি ট্রাক্টরে ধান লোড করছিলাম, তখনও বিজিবি সদস্যরা সেখানে অবস্থান করছিলেন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের টেনে-হিঁচড়ে ভারতের দিকে নিয়ে যায়। তারা যেতে চাইছিল না এবং কান্নাকাটি করছিল। তাদের কান্নার শব্দ শুনে আমরা এগিয়ে গেলে বিএসএফ সদস্যরা আমাদের বাধা দেয়। বিজিবির এমন ভূমিকা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।”

নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, “খবর পাওয়ার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়। মানবিক কারণে প্রথমে তাদের শূন্যরেখা (জিরো লাইন) এলাকায় থাকতে দেওয়া হলেও সন্ধ্যার পর নোম্যান্সল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রাত ১টার দিকে বিএসএফ সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেয়। এরপর রাতের আঁধারে তারা পুশইনের চেষ্টা থেকে সরে গিয়ে ওই ব্যক্তিদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ওই এলাকায় বিজিবির টহল আরও জোরদার রয়েছে।”

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, পুশইনের চেষ্টা করা ১৭ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৬ জন নারী এবং ৫ জন শিশু রয়েছে। তবে তারা বাংলাদেশি নাকি ভারতীয় নাগরিক, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় পোস্ট

এসেট প্রকল্পের আওতায় সাইক প্রফেশনাল ট্রেনিং সেন্টার, ময়মনসিংহ-এর ৭ম ব্যাচের ট্রেইনিদের এসেসমেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন

সাপাহার সীমান্তে ১৯ ঘণ্টা পর ১৭ জনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ বিজিবি শক্ত অবস্থানে থাকায় ভারত ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

আপডেট সময়: ০৯:৫১:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

জাহাঙ্গীর আলম মানিক
সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি:

নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত এলাকায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৭ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে তাদের আবার ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা ওই ১৭ জনকে পুনরায় ভারতে নিয়ে যায়।

শনিবার (৬ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম।

এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সাপাহার উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্তের ২৩৮/এমপি সীমান্ত পিলার দিয়ে ১৭ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে ভারতের পান্নাছড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা। প্রায় ১৯ ঘণ্টা ধরে এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে কঠোর অবস্থান নেয় বিজিবি। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের কারণে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কলমুডাঙ্গা গ্রামের ট্রাক্টরচালক মাহবুব আলম বলেন, “ওই ১৭ জনকে বিজিবি সদস্যরা পাহারায় রেখেছিলেন। রাত ১১টার দিকে আমি ট্রাক্টরে ধান লোড করছিলাম, তখনও বিজিবি সদস্যরা সেখানে অবস্থান করছিলেন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের টেনে-হিঁচড়ে ভারতের দিকে নিয়ে যায়। তারা যেতে চাইছিল না এবং কান্নাকাটি করছিল। তাদের কান্নার শব্দ শুনে আমরা এগিয়ে গেলে বিএসএফ সদস্যরা আমাদের বাধা দেয়। বিজিবির এমন ভূমিকা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।”

নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, “খবর পাওয়ার পর সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়। মানবিক কারণে প্রথমে তাদের শূন্যরেখা (জিরো লাইন) এলাকায় থাকতে দেওয়া হলেও সন্ধ্যার পর নোম্যান্সল্যান্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। রাত ১টার দিকে বিএসএফ সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেয়। এরপর রাতের আঁধারে তারা পুশইনের চেষ্টা থেকে সরে গিয়ে ওই ব্যক্তিদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ওই এলাকায় বিজিবির টহল আরও জোরদার রয়েছে।”

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, পুশইনের চেষ্টা করা ১৭ জনের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৬ জন নারী এবং ৫ জন শিশু রয়েছে। তবে তারা বাংলাদেশি নাকি ভারতীয় নাগরিক, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।