০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন ডাকাতি আর কখনো যেন না ঘটতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে গঠিত তদন্ত কমিশন। সোমবার (১২ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়।

প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা ভোট ডাকাতির কথা শুনেছিলাম, কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে সিস্টেমকে দুমড়ে-মুচড়ে নিজেদের মতো রায় লিখে নেওয়ার বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। মানুষের টাকায় নির্বাচন আয়োজন করে পুরো জাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। যারা এর সাথে জড়িত ছিল, তাদের চেহারা সামনে নিয়ে আসতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন নির্বাচন ডাকাতি আর না ঘটে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।”

কমিশন প্রধান বিচারপতি শামীম হাসনাইনের নেতৃত্বাধীন এই তদন্ত প্রতিবেদনে বিগত তিনটি নির্বাচনের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে:

  • ২০১৪ সালের নির্বাচন: ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং বাকি ১৪৭টি আসনে সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখার রাষ্ট্রীয় বন্দোবস্ত করা হয়েছিল।
  • ২০১৮ সালের নির্বাচন: কমিশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে রাতের বেলায় ব্যালট পেপারে সিল মেরে বিজয় নিশ্চিত করা হয়। প্রশাসনের অতি-উৎসাহের কারণে কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ১০০ শতাংশের বেশি হয়ে যায়।
  • ২০২৪ সালের নির্বাচন: বিরোধী দল অংশ না নেওয়ায় ‘ডামি’ প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দেখানোর অপকৌশল গ্রহণ করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তিনটি নির্বাচনের পরিকল্পনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে ব্যবহার করা হয়েছিল। একটি বিশেষ ‘নির্বাচন সেল’ গঠনের মাধ্যমে মূলত নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা প্রশাসনের হাতে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য শামীম আল মামুন, কাজী মাহফুজুল হক সুপণ, ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসেন, ড. মোঃ আব্দুল আলীম। উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, রিজওয়ানা হাসান ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। প্রতিবেদনে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একগুচ্ছ সুপারিশমালা প্রদান করা হয়েছে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় পোস্ট

টেকনাফ হ্নীলার নাটমুড়া পাড়ার আইয়ুব ১৭ হাজার ৭২৫ পিস ইয়াবাসহ চট্টগ্রামে আটক

নির্বাচন ডাকাতি আর কখনো যেন না ঘটতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেট সময়: ০৯:০৬:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে গঠিত তদন্ত কমিশন। সোমবার (১২ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়।

প্রতিবেদন গ্রহণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা ভোট ডাকাতির কথা শুনেছিলাম, কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে সিস্টেমকে দুমড়ে-মুচড়ে নিজেদের মতো রায় লিখে নেওয়ার বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। মানুষের টাকায় নির্বাচন আয়োজন করে পুরো জাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। যারা এর সাথে জড়িত ছিল, তাদের চেহারা সামনে নিয়ে আসতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন নির্বাচন ডাকাতি আর না ঘটে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।”

কমিশন প্রধান বিচারপতি শামীম হাসনাইনের নেতৃত্বাধীন এই তদন্ত প্রতিবেদনে বিগত তিনটি নির্বাচনের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে:

  • ২০১৪ সালের নির্বাচন: ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং বাকি ১৪৭টি আসনে সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখার রাষ্ট্রীয় বন্দোবস্ত করা হয়েছিল।
  • ২০১৮ সালের নির্বাচন: কমিশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে রাতের বেলায় ব্যালট পেপারে সিল মেরে বিজয় নিশ্চিত করা হয়। প্রশাসনের অতি-উৎসাহের কারণে কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ১০০ শতাংশের বেশি হয়ে যায়।
  • ২০২৪ সালের নির্বাচন: বিরোধী দল অংশ না নেওয়ায় ‘ডামি’ প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দেখানোর অপকৌশল গ্রহণ করা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই তিনটি নির্বাচনের পরিকল্পনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে হয়েছে। এটি বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে ব্যবহার করা হয়েছিল। একটি বিশেষ ‘নির্বাচন সেল’ গঠনের মাধ্যমে মূলত নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা প্রশাসনের হাতে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য শামীম আল মামুন, কাজী মাহফুজুল হক সুপণ, ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসেন, ড. মোঃ আব্দুল আলীম। উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, রিজওয়ানা হাসান ও মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। প্রতিবেদনে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একগুচ্ছ সুপারিশমালা প্রদান করা হয়েছে।