০৮:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেকারত্ব দূরীকরণে কারিগরি শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম: শিক্ষা উপদেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক:- দেশের বেকারত্ব কমাতে কারিগরি শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। তিনি বলেন, “কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণে ব্যক্তিখাতেরও বড় ভূমিকা রয়েছে।”

মঙ্গলবার (৪ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা জানান, কারিগরি শিক্ষার চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও প্রাইভেট সেক্টরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কর্মশালা করা হয়েছে। দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া জনসচেতনতা বাড়াতে দেশের বিভিন্ন জেলায় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি জানান, নারীদের পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের কারিগরি শিক্ষায় যুক্ত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষাকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে কাজ চলছে।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, পাঠ্যবইয়ে সামান্য ভুল থেকেও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে হবে। তাই ২০২৬ সালের বইগুলো নির্ভুল করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নকল রোধে গৃহীত উদ্যোগ সফল হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, সীমিত সময়ের মধ্যেই ন্যায্য ও মৌলিক কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—অনলাইন শিক্ষার বিস্তার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে রেটিং উন্নয়ন।

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভিসি নিয়োগে সার্চ কমিটির মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।

এ সময় তিনি জাতীয় পর্যায়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট—অর্থনীতির ওপর শ্বেতপত্র এবং টাস্কফোর্স রিপোর্ট—উল্লেখ করে বলেন, এই প্রতিবেদনে শিক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে, যা ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে সহায়ক হবে।

শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য ২০০০ কোটি টাকার বন্ড এবং ২০০ কোটি টাকার নগদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা একটি বড় পদক্ষেপ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় পোস্ট

মদন পৌরসভায় ১নং ওয়ার্ডে সংঘর্ষে আহত-২

বেকারত্ব দূরীকরণে কারিগরি শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম: শিক্ষা উপদেষ্টা

আপডেট সময়: ১০:৩২:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ জুন ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক:- দেশের বেকারত্ব কমাতে কারিগরি শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। তিনি বলেন, “কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণে ব্যক্তিখাতেরও বড় ভূমিকা রয়েছে।”

মঙ্গলবার (৪ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা জানান, কারিগরি শিক্ষার চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও প্রাইভেট সেক্টরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কর্মশালা করা হয়েছে। দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া জনসচেতনতা বাড়াতে দেশের বিভিন্ন জেলায় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি জানান, নারীদের পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধীদের কারিগরি শিক্ষায় যুক্ত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষাকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে কাজ চলছে।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, পাঠ্যবইয়ে সামান্য ভুল থেকেও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে হবে। তাই ২০২৬ সালের বইগুলো নির্ভুল করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নকল রোধে গৃহীত উদ্যোগ সফল হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, সীমিত সময়ের মধ্যেই ন্যায্য ও মৌলিক কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—অনলাইন শিক্ষার বিস্তার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে রেটিং উন্নয়ন।

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভিসি নিয়োগে সার্চ কমিটির মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দিতে সক্ষম হবে।

এ সময় তিনি জাতীয় পর্যায়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট—অর্থনীতির ওপর শ্বেতপত্র এবং টাস্কফোর্স রিপোর্ট—উল্লেখ করে বলেন, এই প্রতিবেদনে শিক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে, যা ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে সহায়ক হবে।

শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষকদের জন্য ২০০০ কোটি টাকার বন্ড এবং ২০০ কোটি টাকার নগদ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা একটি বড় পদক্ষেপ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব ড. খ ম কবিরুল ইসলাম।