০৩:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধা সদরের সংসারিক কলহে আত্মহত্যার পথে, মানবাধিকার সংগঠনে উদ্যোগে রক্ষা পেলেন মা ও শিশু।

মোঃ আশরাফুল ইসলাম আকন্দ
স্টাফ রিপোর্টার

গাইবান্ধা শহরের সরকারপাড়া ও ডেভিড কোম্পানিপাড়ার মাঝামাঝি রেললাইনের ছোট সেতু পার হয়ে এক নারী তার ছয় মাস বয়সী কন্যা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাচ্ছিলেন।
স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ ও মানসিক অশান্তির কারণে তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।
এ সময় পথচারী এক যুবক ওই নারীর কান্নাকাটি ও অস্বাভাবিক আচরণ দেখে সন্দেহ করেন।
তিনি কাছে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে নারী জানান, তিনি আর বেঁচে থাকতে চান না। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে যুবকটি দ্রুত আমাদের মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিষয়টি বিস্তারিত জানান।
খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলি। তার পারিবারিক সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনি এবং তাকে আশ্বস্ত করি যে, জীবনের প্রতিটি সমস্যারই সমাধান আছে। পরে তাকে আমাদের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং স্বামীর সঙ্গেও আলোচনা করা হয়।
দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চলমান ভুল বোঝাবুঝি ও মনোমালিন্যের অবসান ঘটিয়ে পারিবারিকভাবে আপস-মীমাংসার ব্যবস্থা করা হয়।
উভয় পক্ষ একে অপরকে বুঝে চলার এবং পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখার অঙ্গীকার করেন।
আমরা তাকে বুঝিয়েছি যে, আত্মহত্যা মহাপাপ।
জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলো ধৈর্য, সাহস ও বিশ্বাসের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হয়।
বিশেষ করে নিষ্পাপ শিশুটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে একজন মায়ের বেঁচে থাকা এবং সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জীবন অমূল্য।
সাময়িক কষ্ট বা হতাশার কারণে কখনোই আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

পরিবারের ভালোবাসা, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং মহান আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা রেখে জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়াই শ্রেয়।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় পোস্ট

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় চক্করের  সড়কে মাদকসেবীদের উৎপাত,

গাইবান্ধা সদরের সংসারিক কলহে আত্মহত্যার পথে, মানবাধিকার সংগঠনে উদ্যোগে রক্ষা পেলেন মা ও শিশু।

আপডেট সময়: ০১:৪৭:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

মোঃ আশরাফুল ইসলাম আকন্দ
স্টাফ রিপোর্টার

গাইবান্ধা শহরের সরকারপাড়া ও ডেভিড কোম্পানিপাড়ার মাঝামাঝি রেললাইনের ছোট সেতু পার হয়ে এক নারী তার ছয় মাস বয়সী কন্যা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাচ্ছিলেন।
স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহ ও মানসিক অশান্তির কারণে তিনি এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।
এ সময় পথচারী এক যুবক ওই নারীর কান্নাকাটি ও অস্বাভাবিক আচরণ দেখে সন্দেহ করেন।
তিনি কাছে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে নারী জানান, তিনি আর বেঁচে থাকতে চান না। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে যুবকটি দ্রুত আমাদের মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং বিষয়টি বিস্তারিত জানান।
খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ওই নারীর সঙ্গে কথা বলি। তার পারিবারিক সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনি এবং তাকে আশ্বস্ত করি যে, জীবনের প্রতিটি সমস্যারই সমাধান আছে। পরে তাকে আমাদের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং স্বামীর সঙ্গেও আলোচনা করা হয়।
দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চলমান ভুল বোঝাবুঝি ও মনোমালিন্যের অবসান ঘটিয়ে পারিবারিকভাবে আপস-মীমাংসার ব্যবস্থা করা হয়।
উভয় পক্ষ একে অপরকে বুঝে চলার এবং পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখার অঙ্গীকার করেন।
আমরা তাকে বুঝিয়েছি যে, আত্মহত্যা মহাপাপ।
জীবনের কঠিন মুহূর্তগুলো ধৈর্য, সাহস ও বিশ্বাসের মাধ্যমে মোকাবিলা করতে হয়।
বিশেষ করে নিষ্পাপ শিশুটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে একজন মায়ের বেঁচে থাকা এবং সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জীবন অমূল্য।
সাময়িক কষ্ট বা হতাশার কারণে কখনোই আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

পরিবারের ভালোবাসা, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং মহান আল্লাহর রহমতের ওপর ভরসা রেখে জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়াই শ্রেয়।