০৩:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‎মণিরামপুর প্রধান শিক্ষক আমানতের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

‎একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত নিজের ভাই,বোন জামাই,বোনের নাতী,নিজের স্ত্রী ও প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিজেই বহালে আছেন মণিরামপুর উপজেলার জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমানত আলী। এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানীতি বহির্ভূত এহেন কর্মকান্ড ছাড়াও অভিযোগ উঠেছে নিয়মিত আসেন না বিদ্যালয়ে এমনকি বিগত বছরের তারিখে নতুন করে ৩টি পদে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে আমানতের খেয়ানতকারী শিক্ষক মোঃ আমানত আলীর বিরুদ্ধে।

‎স্থানীয়সূত্রে তথ্য পেয়ে সরেজমিনে গেলে জানা যায়,এর আগেও এ ধরনের নিয়োগ বানিজ্য তিনি করেছেন। এর আগেও অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু সাংবাদিকেরা এসে ফুটেজ সংগ্রহ করেই মোটা।অংকের টাকার বিনিময়ে আর তা প্রকাশ করেননি। এখানেই শেষ না,অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রেজুলেশন ছাড়ায় বিগত বছরের মণিরামপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্রের সময়ে স্বাক্ষরিত নোটিশের মাধ্যমে এ নিয়োগ তিনি সম্পন্ন করে রিতীমতো এমপিও তালিকায় তুলে দিয়েছেন বলে চলতি এ সমস্ত তথ্য দিয়েছেন জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গনীতের শিক্ষিকা গুলশানারা বেগম সহ কয়েকজন সহকারি শিক্ষক-শিক্ষিকা।

‎এ নিয়ম নাকি চলে আসছে বহু বছর থেকে,প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষকের জানা নাই কবে কোন শিক্ষক/কর্মচারী নিয়োগ পেয়ে আসছে। হঠাৎ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, রবিবার(১৩ই জুন) সকালে নতুন তিনটি অবৈধ নিয়োগের কথা ফাঁস হওয়াতে স্থানীয় অভিভাবক মহলের কয়েকজন ব্যাক্তি প্রতিষ্ঠানে এসে উল্লেখিত বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আমানত আলী তাদের সাথে অশালীন আচরন করেন। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ আর খারাপ আচরনের এক পর্যায়ে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মান রক্ষার্থে তাকে সম্মান দেখালে তিনি প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেন এবং প্রতিষ্ঠানে আর ফেরেন নি।

‎আরেক সহকারি শিক্ষিকা দাবী করেন, তিনি প্রধান শিক্ষক আমানতের ১ম পক্ষের স্ত্রী। তার ৩টি ছেলে মেয়ে আছে,একজনের বিয়ে হয়েছে বাকি ২জন অধ্যায়নরত। একই প্রতিষ্ঠানে দুই জন চাকুরী করলেও কোন ধরনের খোজ রাখেন না আমানত খেয়ানতকারী প্রধান শিক্ষক আমানত আলী। তিনি জানান, করোনা কালীন সময়ে তাদের বড় মেয়ের বাচ্চা হওয়ার সুবাধে ঢাকায় কয়েকদিন অবস্থান করেন। ফিরে এসে জানতে পারেন যে, তার স্বামী আমানত আলী আরেকজনকে বিয়ে করেছে। বাড়িতে মেনে না নেওয়ায় পার্শ্ববর্তী খেদাপাড়া বাজারে জমি কিনে বাড়ি করেছেন এখনো সেখানে ২য় বউ নিয়েই থাকেন।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারি শিক্ষিকা জানান,আমরা ২/৩জন সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া বাদে বাকিরা সবাই প্রধান শিক্ষক আমানত আলীর নিয়োগে এখানে শিক্ষাকতা করছেন। এজন্য কেউ কিছুই বলেন না,দিনের পরদিন এভাবেই চলছে সরকারের দেওয়া স্থানীয়দের আমানতের জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমানত আলীর খেয়ানতী কার্যকলাপ।

‎স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবী, অসামাজিক ও শিক্ষানীতি বহির্ভূত অসংখ্য অপরাধে সম্পৃক্ত থাকা একজন শিক্ষক কি ধরনের শিক্ষা দিবেন! নৈতিকতার শিক্ষা দানের পরিবর্তে অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সামাজিকতা,নৈতিকতা হতে পিছিয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

‎অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আমানত আলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি মারাত্বক অসুস্থ বলে ফোনকল কেটে দেন। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অপরাধ কঠোর শাস্তি যোগ্য বলে জানিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চলমান কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি ও মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেন জানান,তার বিরুদ্ধে এ সমস্ত অপরাধ প্রমানিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় পোস্ট

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলায় চক্করের  সড়কে মাদকসেবীদের উৎপাত,

‎মণিরামপুর প্রধান শিক্ষক আমানতের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

আপডেট সময়: ১০:৪৬:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

‎একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত নিজের ভাই,বোন জামাই,বোনের নাতী,নিজের স্ত্রী ও প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিজেই বহালে আছেন মণিরামপুর উপজেলার জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমানত আলী। এমপিও ভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানীতি বহির্ভূত এহেন কর্মকান্ড ছাড়াও অভিযোগ উঠেছে নিয়মিত আসেন না বিদ্যালয়ে এমনকি বিগত বছরের তারিখে নতুন করে ৩টি পদে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে আমানতের খেয়ানতকারী শিক্ষক মোঃ আমানত আলীর বিরুদ্ধে।

‎স্থানীয়সূত্রে তথ্য পেয়ে সরেজমিনে গেলে জানা যায়,এর আগেও এ ধরনের নিয়োগ বানিজ্য তিনি করেছেন। এর আগেও অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু সাংবাদিকেরা এসে ফুটেজ সংগ্রহ করেই মোটা।অংকের টাকার বিনিময়ে আর তা প্রকাশ করেননি। এখানেই শেষ না,অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রেজুলেশন ছাড়ায় বিগত বছরের মণিরামপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্রের সময়ে স্বাক্ষরিত নোটিশের মাধ্যমে এ নিয়োগ তিনি সম্পন্ন করে রিতীমতো এমপিও তালিকায় তুলে দিয়েছেন বলে চলতি এ সমস্ত তথ্য দিয়েছেন জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গনীতের শিক্ষিকা গুলশানারা বেগম সহ কয়েকজন সহকারি শিক্ষক-শিক্ষিকা।

‎এ নিয়ম নাকি চলে আসছে বহু বছর থেকে,প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষকের জানা নাই কবে কোন শিক্ষক/কর্মচারী নিয়োগ পেয়ে আসছে। হঠাৎ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, রবিবার(১৩ই জুন) সকালে নতুন তিনটি অবৈধ নিয়োগের কথা ফাঁস হওয়াতে স্থানীয় অভিভাবক মহলের কয়েকজন ব্যাক্তি প্রতিষ্ঠানে এসে উল্লেখিত বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আমানত আলী তাদের সাথে অশালীন আচরন করেন। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ আর খারাপ আচরনের এক পর্যায়ে স্থানীয়রা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মান রক্ষার্থে তাকে সম্মান দেখালে তিনি প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করেন এবং প্রতিষ্ঠানে আর ফেরেন নি।

‎আরেক সহকারি শিক্ষিকা দাবী করেন, তিনি প্রধান শিক্ষক আমানতের ১ম পক্ষের স্ত্রী। তার ৩টি ছেলে মেয়ে আছে,একজনের বিয়ে হয়েছে বাকি ২জন অধ্যায়নরত। একই প্রতিষ্ঠানে দুই জন চাকুরী করলেও কোন ধরনের খোজ রাখেন না আমানত খেয়ানতকারী প্রধান শিক্ষক আমানত আলী। তিনি জানান, করোনা কালীন সময়ে তাদের বড় মেয়ের বাচ্চা হওয়ার সুবাধে ঢাকায় কয়েকদিন অবস্থান করেন। ফিরে এসে জানতে পারেন যে, তার স্বামী আমানত আলী আরেকজনকে বিয়ে করেছে। বাড়িতে মেনে না নেওয়ায় পার্শ্ববর্তী খেদাপাড়া বাজারে জমি কিনে বাড়ি করেছেন এখনো সেখানে ২য় বউ নিয়েই থাকেন।

‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সহকারি শিক্ষিকা জানান,আমরা ২/৩জন সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়া বাদে বাকিরা সবাই প্রধান শিক্ষক আমানত আলীর নিয়োগে এখানে শিক্ষাকতা করছেন। এজন্য কেউ কিছুই বলেন না,দিনের পরদিন এভাবেই চলছে সরকারের দেওয়া স্থানীয়দের আমানতের জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমানত আলীর খেয়ানতী কার্যকলাপ।

‎স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবী, অসামাজিক ও শিক্ষানীতি বহির্ভূত অসংখ্য অপরাধে সম্পৃক্ত থাকা একজন শিক্ষক কি ধরনের শিক্ষা দিবেন! নৈতিকতার শিক্ষা দানের পরিবর্তে অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সামাজিকতা,নৈতিকতা হতে পিছিয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

‎অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আমানত আলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি মারাত্বক অসুস্থ বলে ফোনকল কেটে দেন। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অপরাধ কঠোর শাস্তি যোগ্য বলে জানিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চলমান কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি ও মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেন জানান,তার বিরুদ্ধে এ সমস্ত অপরাধ প্রমানিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।