০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিতেশ্বরে যুবককে তুলে নেওয়ার অভিযোগ,২৮ ঘণ্টা পর মুক্তি

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১২নং গিয়াসনগর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের নিতেশ্বর এলাকায় সানি নামে এক রাজমিস্ত্রিকে মারধর করে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন তরুণের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, আগের দিন বিকেল ৪টার দিকে তাকে তুলে নেওয়া হয় এবং পরের দিন রাত ৮টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিতেশ্বর এলাকার পাশের একটি বাগানে সানি ঘুরতে গেলে সেখানে দুই তরুণ ও দুই তরুণীকে দেখতে পান। তাদের কথিত আপত্তিকর আচরণ দেখে সানি প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন তরুণ তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ।
পরবর্তীতে আরও কয়েকজন তরুণ ঘটনাস্থলে এসে সানিকে মারধর করে ৬-৭টি মোটরসাইকেলে করে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। সানির দাবি, তাকে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন এলাকায় নিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সানিকে যারা মারধর করে নিয়ে গিয়েছিল, তারা শ্রীমঙ্গল এলাকার বাসিন্দা। বিষয়টি জানাজানি হলে সানিকে যে এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেখানকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ঘটনাটি নিয়ে খোঁজখবর নেন। পরে আলোচনা শেষে পরের দিন রাত ৮টার দিকে সানিকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
জনগণের প্রশ্ন—মারধরের শিকার যুবকই কি কিশোর গ্যাং?
জনগণের প্রশ্ন—যে যুবক নিজেই মারধরের শিকার হয়ে অসহায় অবস্থায় পড়েছিলেন, তাকেই আবার ‘কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে কেন?
দুই তরুণ ও দুই তরুণীর কথিত আপত্তিকর আচরণ দেখে সানি প্রতিবাদ করলেই কি তাকে ‘কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য’ বলা গ্রহণযোগ্য? কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেই কাউকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এমন গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে অবশ্যই যাচাইযোগ্য তথ্য-প্রমাণ থাকা প্রয়োজন।
আতাউর রহমানকে নিয়ে প্রচারণার অভিযোগ
সানিকে তুলে নেওয়ার ঘটনার পর Moulvibazar 3200 Channel-এ সানিকে ‘কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য’ এবং ১২নং গিয়াসনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সমাজসেবক আতাউর রহমানকে ওই গ্যাংয়ের লিডার হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সানিকে তুলে নেওয়ার ঘটনার বিষয়ে আতাউর রহমান অবগত ছিলেন না। তাকে এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
জনগণের প্রশ্ন—আতাউর রহমানকে হঠাৎ করে এই ঘটনার সঙ্গে জড়ানো হলো কেন? তার বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বা নেতৃত্বের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করা হোক। আর প্রমাণ না থাকলে একজন সমাজসেবক ও চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ প্রচারের কারণ কী—এ প্রশ্নও উঠেছে।
তবে Moulvibazar 3200 Channel-এ প্রচারিত বক্তব্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট চ্যানেল ও আতাউর রহমানের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহিন সাহেবকে নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ
এদিকে ৮নং ওয়ার্ড নিতেশ্বর এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহিন সাহেবকে নিয়েও মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাকে ‘ইয়াবা ব্যবসায়ী’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে বলেও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, শাহিন সাহেব একজন সম্মানিত ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা উচিত। প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রচার করা অনুচিত।
তবে শাহিন সাহেবকে নিয়ে প্রচারিত অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জনগণের বক্তব্য
জনগণের বক্তব্য—যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রচারের আগে যাচাইযোগ্য তথ্য-প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত।
মিথ্যা বা ভিত্তিহীন অভিযোগে কাউকে সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা উচিত নয়। সত্য একদিন না একদিন প্রকাশিত হবেই। তাই প্রমাণ ছাড়া কারও বিরুদ্ধে অপপ্রচার না করে সত্য ও যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

লেখক সম্পর্কিত তথ্য

জনপ্রিয় পোস্ট

সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে মাদক, জুয়া ও বাল্যবিয়ে রোধে কমিউনিটি পুলিশিং সভা ​অনুষ্টিত হয়েছে।

নিতেশ্বরে যুবককে তুলে নেওয়ার অভিযোগ,২৮ ঘণ্টা পর মুক্তি

আপডেটের সময় : ১২:৩৭:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১২নং গিয়াসনগর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের নিতেশ্বর এলাকায় সানি নামে এক রাজমিস্ত্রিকে মারধর করে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন তরুণের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, আগের দিন বিকেল ৪টার দিকে তাকে তুলে নেওয়া হয় এবং পরের দিন রাত ৮টার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিতেশ্বর এলাকার পাশের একটি বাগানে সানি ঘুরতে গেলে সেখানে দুই তরুণ ও দুই তরুণীকে দেখতে পান। তাদের কথিত আপত্তিকর আচরণ দেখে সানি প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে কয়েকজন তরুণ তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ।
পরবর্তীতে আরও কয়েকজন তরুণ ঘটনাস্থলে এসে সানিকে মারধর করে ৬-৭টি মোটরসাইকেলে করে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ। সানির দাবি, তাকে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশন এলাকায় নিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সানিকে যারা মারধর করে নিয়ে গিয়েছিল, তারা শ্রীমঙ্গল এলাকার বাসিন্দা। বিষয়টি জানাজানি হলে সানিকে যে এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেখানকার কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ঘটনাটি নিয়ে খোঁজখবর নেন। পরে আলোচনা শেষে পরের দিন রাত ৮টার দিকে সানিকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
জনগণের প্রশ্ন—মারধরের শিকার যুবকই কি কিশোর গ্যাং?
জনগণের প্রশ্ন—যে যুবক নিজেই মারধরের শিকার হয়ে অসহায় অবস্থায় পড়েছিলেন, তাকেই আবার ‘কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে কেন?
দুই তরুণ ও দুই তরুণীর কথিত আপত্তিকর আচরণ দেখে সানি প্রতিবাদ করলেই কি তাকে ‘কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য’ বলা গ্রহণযোগ্য? কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেই কাউকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া উচিত নয়। এমন গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে অবশ্যই যাচাইযোগ্য তথ্য-প্রমাণ থাকা প্রয়োজন।
আতাউর রহমানকে নিয়ে প্রচারণার অভিযোগ
সানিকে তুলে নেওয়ার ঘটনার পর Moulvibazar 3200 Channel-এ সানিকে ‘কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য’ এবং ১২নং গিয়াসনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সমাজসেবক আতাউর রহমানকে ওই গ্যাংয়ের লিডার হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সানিকে তুলে নেওয়ার ঘটনার বিষয়ে আতাউর রহমান অবগত ছিলেন না। তাকে এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
জনগণের প্রশ্ন—আতাউর রহমানকে হঠাৎ করে এই ঘটনার সঙ্গে জড়ানো হলো কেন? তার বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বা নেতৃত্বের সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করা হোক। আর প্রমাণ না থাকলে একজন সমাজসেবক ও চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ প্রচারের কারণ কী—এ প্রশ্নও উঠেছে।
তবে Moulvibazar 3200 Channel-এ প্রচারিত বক্তব্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট চ্যানেল ও আতাউর রহমানের বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহিন সাহেবকে নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ
এদিকে ৮নং ওয়ার্ড নিতেশ্বর এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহিন সাহেবকে নিয়েও মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাকে ‘ইয়াবা ব্যবসায়ী’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে বলেও স্থানীয়দের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, শাহিন সাহেব একজন সম্মানিত ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করা উচিত। প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রচার করা অনুচিত।
তবে শাহিন সাহেবকে নিয়ে প্রচারিত অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
জনগণের বক্তব্য
জনগণের বক্তব্য—যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রচারের আগে যাচাইযোগ্য তথ্য-প্রমাণ থাকা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরা উচিত।
মিথ্যা বা ভিত্তিহীন অভিযোগে কাউকে সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা উচিত নয়। সত্য একদিন না একদিন প্রকাশিত হবেই। তাই প্রমাণ ছাড়া কারও বিরুদ্ধে অপপ্রচার না করে সত্য ও যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।