মো. মফিদুল ইসলাম সরকার
ঢাকা প্রতিনিধি ,
৭ জুন ২০২৬: বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত, এমপিও আবেদনপূর্বক ২০২৫ সালের নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাইকৃত অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার এমপিও বাস্তবায়ন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক অনুমোদিত শূন্য পদে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বকেয়া অনুদান ও বেতন ছাড়ের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান ধর্মঘটের ১৮তম দিন চলছে।
গত ২১ মে ২০২৬ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক কল্যাণ কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি শুরু হয়। সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা শামসুল হক আনছারীর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব হাফেজ মাওলানা মুফতী আব্দুল হান্নান হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে সংগঠনের সমন্বয়ক মাওলানা শেখ নজরুল ইসলাম মাহবুব, মো. গোলাম আজম, মাওলানা আব্দুর রহমান শাহজাহান, আব্দুছ সাত্তার, রাকিবুল ইসলাম, শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. নুরুননবী, মহাসচিব মো. শামছুল আলম, শিক্ষক সোসাইটির সভাপতি মো. আলতাফ হোসেন, কাজী নজরুল ইসলাম হিরন, জাহাঙ্গীর আলম বাদশা, এস. এম. নজরুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুছ ছাত্তার, মাওলানা জুহুরুল আলম, মাওলানা ওমর ফারুক, মাওলানা আবুল কালাম, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা ইমদাদ, মো. শহীদুল ইসলামসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাসমূহ ৩ জুলাই থেকে ১০ জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত বিধি মোতাবেক এমপিও আবেদন করে। কিন্তু প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত একটি মাদ্রাসাও এমপিওভুক্ত করা হয়নি। একই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও শূন্য পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ও কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন-ভাতা ছাড় করা হয়নি। ফলে প্রায় ১ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তারা আরও বলেন, ১৯৭৮ সালের অধ্যাদেশের ১৭(২) ধারার আওতায় আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাথমিক স্তরের অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে স্বীকৃতি প্রদান করে। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে এসব মাদ্রাসার শিক্ষকদের জন্য ভাতা চালু করা হয় এবং ২০০১ সালে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত বা জাতীয়করণ করা হয়নি।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০১৩ সালে সরকার হাজার হাজার নিবন্ধিত প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করলেও স্বীকৃতিপ্রাপ্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে সেই সুযোগের আওতায় আনা হয়নি। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন এবং শিক্ষার্থীরা আধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষার পূর্ণ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তারা দাবি করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় জাতীয়করণ অথবা দ্রুত এমপিওভুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত শূন্য পদে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জানুয়ারি ২০২৬ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত বকেয়া অনুদান ও বেতন অবিলম্বে ছাড় করতে হবে।
বক্তারা জানান, গত ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজহার দিন নামাজ আদায়ের পর শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজার জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে পদযাত্রা শুরু করা হলে বিজয় সরণি এলাকায় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পদযাত্রা স্থগিত করা হয়। এ সময় ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন এলাকায় গেলে গুলশান থানা পুলিশ তাদের আটক করে এবং বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ছেড়ে দেয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঈদের ছুটি শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানান।
এদিকে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, আজ ৭ জুন ২০২৬, রবিবার সকাল ১০টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন।
তারা অবিলম্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে তাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন