
ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন ছিল। দীর্ঘ দুই বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে বিয়েও করেছিলেন সফর আহমদ ও সেলিনা বেগম। কিন্তু পরিবারের সম্মতি না থাকায় শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বরং নানা চাপ ও বাধার মধ্য দিয়ে সেলিনাকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার পরিবারের বিরুদ্ধে। এতে ভেঙে পড়েছেন সফর আহমদ। তার দাবি, ভালোবাসার মানুষকে কাছে পেয়েও শেষ পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।
সফর আহমদ, পিতা—হানিফ উল্লাহ। তার বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ২ নম্বর খন্ড এলাকায় বলে জানা গেছে। অন্যদিকে সেলিনা বেগম, পিতা—সাজিদ আলী; তার বাড়ি সিলেটের জৈন্তাপুর থানার চিকনাগুল এলাকায় বলে সফর জানিয়েছেন।
সফর আহমদের দাবি, সেলিনা বেগমের সঙ্গে তার প্রায় দুই বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্কের পর তারা একসঙ্গে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন। একপর্যায়ে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিয়েও করেন তারা। বিয়ের পর নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখছিলেন দুজনেই।
কিন্তু সেই স্বপ্নে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সেলিনার পরিবার—এমনটাই অভিযোগ সফরের। তার দাবি, পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের সম্পর্ক মেনে নেওয়া হয়নি। বরং সেলিনার ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়।
সফর আরও অভিযোগ করেন, তাকে সম্পর্ক থেকে দূরে রাখতে সেলিনাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়া তাবিজ-কবজের মাধ্যমে সেলিনাকে প্রভাবিত করার অভিযোগও করেছেন সফর। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সফর আহমদের ভাষায়, “দুই বছর ধরে আমরা একে অপরকে ভালোবেসেছি। অনেক স্বপ্ন ছিল—একসঙ্গে সংসার করব, সুখে-দুঃখে পাশে থাকব। সেই স্বপ্ন থেকেই আমরা বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু পরিবারের কাছে আমাদের ভালোবাসা মেনে নেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, ভালোবাসার সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কষ্টের চেয়েও বেশি কষ্ট হচ্ছে—যে মানুষটিকে নিয়ে ভবিষ্যৎ সাজানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাকে চোখের সামনে অন্য জীবনে চলে যেতে দেখা।
সফর বলেন, “আমি কাউকে হারানোর জন্য ভালোবাসিনি। তাকে নিয়ে একটি সুন্দর জীবন গড়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি আমাদের সেই সুযোগ দিল না। আমাদের ভালোবাসার গল্পটা শুরু হয়েছিল অনেক স্বপ্ন নিয়ে, অথচ শেষটা হলো বিচ্ছেদে। তাই এটি আমার জীবনের একটি অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প হয়ে রয়ে গেল।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা থাকলেও পুরো বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য জানা প্রয়োজন। বিশেষ করে সেলিনা বেগম ও তার পরিবারের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
একদিকে দীর্ঘদিনের ভালোবাসা, অন্যদিকে পরিবারের সিদ্ধান্ত—এই টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত একসঙ্গে থাকা হয়নি সফর ও সেলিনার। ভালোবাসা ছিল, স্বপ্ন ছিল, বিয়েও হয়েছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্নের সংসার আর গড়ে ওঠেনি।
সফর-সেলিনার এই গল্প তাই হয়তো থেকে যাবে—একটি ভালোবাসা, একটি বিয়ে এবং শেষ পর্যন্ত অপূর্ণ থেকে যাওয়া এক হৃদয়বিদারক অধ্যায় হিসেবে।
সিলেট সদর উপজেলা প্রতিনিধি। 




















