০২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে একরাতে ৯ মৃত্যু, উখিয়ার ক্যাম্পেই ৮ জনের প্রাণহানি

 

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৮ জন নিহত হয়েছেন। একই রাতে কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে একরাতে জেলায় পাহাড়ধসে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ জনে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। এতে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) ও চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। এছাড়া আহত হন আরও দুজন।

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক রাতেই তিন দফা পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ ৮ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে জেলায় একরাতে পাহাড়ধসে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ জনে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। এতে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।

এর কিছুক্ষণ পর রাত ১টা ৪৫ মিনিটে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

রাত ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩) নিহত হন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।

উখিয়া উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।

এদিকে সোমবার ভোরে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিনজন চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী আরও দুই দিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রশাসন সকলকে পাহাড়ের ঢাল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছে।

ট্যাগ :

আপনার মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করুন

লেখক তথ্য সম্পর্কে

জনপ্রিয় পোস্ট

ঈদগাঁওতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলে গ্রাহকদের মাথায় হাত ! 

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে একরাতে ৯ মৃত্যু, উখিয়ার ক্যাম্পেই ৮ জনের প্রাণহানি

আপডেট সময়: ১২:১৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

 

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৮ জন নিহত হয়েছেন। একই রাতে কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে একরাতে জেলায় পাহাড়ধসে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ জনে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। এতে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) ও চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। এছাড়া আহত হন আরও দুজন।

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক রাতেই তিন দফা পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও শিশুসহ ৮ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে কক্সবাজার শহরের ছাত্তারঘোনা এলাকায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে জেলায় একরাতে পাহাড়ধসে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ জনে।

সোমবার (৬ জুলাই) রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের বসতঘরের ওপর পাহাড়ের মাটি ধসে পড়ে। এতে কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস নিহত হন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন।

এর কিছুক্ষণ পর রাত ১টা ৪৫ মিনিটে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়।

রাত ৩টার দিকে বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে আরেকটি পাহাড়ধসে উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) ও হারুনুর রশিদ (৩) নিহত হন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।

উখিয়া উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে।

এদিকে সোমবার ভোরে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তারঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিনজন চাপা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী আরও দুই দিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রশাসন সকলকে পাহাড়ের ঢাল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছে।