সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের ষষ্ঠী থেকে পূঁজা শুরু তাদের মণ্ডপে বাজবে ঢাক ও কাঁশি

লেখক: আমির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর
প্রকাশ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬

সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বী হিন্দু সম্প্রদায়ের আজ শুরু হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।১৬ অক্টোবর শুক্রবার ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে বড় এই উৎসবের আমেজ। এবার জেলা ও বিভিন্ন উপজেলায় তাদের মণ্ডপে বাজবে শঙ্খ, শোনা যাবে ঢাক-ঢোল, কাঁশি ও বাঁশির শব্দ। তাই দেবী দুর্গাকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।এবার সপ্তমী দুই দিন হওয়ায় ১৬ অক্টোবর (শুক্রবার) থেকে ২১ অক্টোবর (বুধবার) ৬ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এবার দেবী দুর্গার মর্ত্যলোকে আগমন ঘটবে (ঘোড়ায়) চড়ে, আর গমন করবেন নৌকায়। তাই মাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন গাজীপুর জেলার সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। আর শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব উদযাপনের আশায় আছেন গাজীপুর জেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এজন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা গড়ার কারিগররা।এবার এ জেলা তাদের মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে চলছে। এর মধ্যে গাজীপুর এবং কালিয়াকৈর উপজেলায় এবং পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।গত বছর মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল এ জেলায়। তার আগের বছর মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার এ বছর জেলা বাড়তি অনেক গুলো মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।জেলা একাধিক উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, কাদা-মাটি, বাঁশ, খড়, সুতলি দিয়ে শৈল্পিক ছোঁয়ায় তিলতিল করে তৈরি করেছে দেবী দুর্গার প্রতিমা। রাত-দিন শক্ত মাটি নরম করে দেবী দুর্গার সঙ্গে নিপুণ হাতে গড়ে তুলেছে কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী আর অসুরের প্রতিমা। প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ। এখন দেবী দুর্গাকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে রংতুলির আঁচড়ে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা। স্থানীয় শিল্পী ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শিল্পীরা এখানে রংতুলিতে জানান দিচ্ছেন তাঁদের হাতের নৈপুণ্য।অন্যদিকে প্রতিমার পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্র ঠিক ও তৈরি করতে ব্যস্ত সময় পার করছে ঢাক-ঢোল, কাঁশি ও বাঁশির কারিগররা। এ ছাড়া মণ্ডপগুলোতে চলছে সাজসজ্জার প্রস্তুতি।আয়োজকেরা জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপনের জন্য তাই প্রস্তুত আছে জেলা পূজা উদযাপন ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতারা। আর শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে পূজা সম্পন্ন করতে প্রস্তুত আছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। আলোকসজ্জা ও মন্দিরগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।সার্বজনীন এ দুর্গাপূজাকে উৎসবমুখর করতে বিগত বছরগুলোর চেয়ে এ বছর সরকারি বরাদ্দে খাদ্য সামগ্রী ও বিশেষ করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষরা যেন ৬ দিনব্যাপী তাঁদের বৃহৎ ধর্মীয় এ উৎসব পালন করতে পারে, সে লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্ব স্ব এলাকার এমপি, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন পরিষদ, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট ও বিভিন্ন মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।তবে প্রতিমা তৈরির উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি পেলেও কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাচ্ছে না বলে জানান কারিগররা। আর্থিকভাবে লাভবান না হলেও পৈতৃক পেশা ধরে রাখতে এ কাজ করে যাচ্ছেন কারিগররা।মৃৎশিল্পীরা জানান, প্রতিমা তৈরির এ কাজ শুধু পেশা নয়, ধর্মীয় আবেগ ও ভালোবাসার জায়গা থেকে করা হয়। সেই জন্য দুর্গা মাকে নিজের মায়ের মতো করেই গড়ি। তাঁরা আরও বলেন, প্রতিমা তৈরির উপকরণের দাম বাড়লেও ক্রেতারা প্রতিমার দাম বলছেন কম। বাধ্য হয়ে প্রতিমা বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে খুব একটা লাভের মুখ দেখছি না। পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বলেন, সাজসজ্জাসহ সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। আমাদের এটা পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য আগামীকাল থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা। এবার সরকারি অনুদান খাদ্য কিছু চাউল পাওয়া গেছে। এবং কল্যাণ ট্রাস্ট থেকেও অনুদান পাওয়া যাবে। এ ছাড়া জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। আশা করছি পূজা আনন্দসহ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে শেষ হবে।বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ দেশ। এ দেশে সব সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁদের স্ব স্ব ধর্ম পালন করে আসছে শত শত বছর ধরে। সার্বজনীন এ দুর্গাপূজা উদযাপনে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করার আহ্বান জানান তিনি।জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং পৌর শাখার সভাপতি বলেন, আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে শুরু হবে এ পূজা উৎসব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুন্দর ও সুষ্ঠু আছে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় পূজা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।পূজা সমন্ধে আরো জানতে চাইলে জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক বলেন, এবার জেলায় যত টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। মণ্ডপের পূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য জেলা প্রশাসনসহ জেলা সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে দফায় দফায় মিটিং করা হয়েছে। উনারা সকলেই পূজা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। কাজেই এবার সবচেয়ে উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে পূজা উদযাপন হবে। আনন্দ হবে সকলে মিলে। কারণ ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। এ ছাড়া বিএনপি সরকার হিন্দুদের প্রতি আলাদা নজর রেখেছেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিএনপি সরকার বদ্ধপরিকর।

শিরোনাম