— মোহাম্মদ আনোয়ার
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার ভিত্তিতে এ বছর বাংলাদেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আগামীকাল শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫) উদযাপিত হবে। মধ্যপ্রাচ্যে এটি পালিত হচ্ছে আজ শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫)।
বিশ্বমানবের ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির বার্তা নিয়ে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে ১২ই রবিউল আউয়াল সোমবার সুবহে সাদেকের প্রহরে পৃথিবীতে আগমন করেন প্রিয় নবী, খাতামুন্নাবীঈন, রহমাতুল্লিল আলামীন, শান্তির অগ্রদূত ও মানবতার মুক্তিদাতা হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সা.)। তাঁর আগমনের মাধ্যমে গোটা বিশ্ব আলোকিত হয়, আর মানবতার মুক্তির দ্বার উন্মুক্ত হয়।
পবিত্র মিলাদুন্নবীর ইতিহাস প্রাচীন। ইসলামী ঐতিহ্য অনুসারে, নবীগণের মহাসম্মেলন ডেকে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বেলাদত ও মর্যাদা তুলে ধরেন। কুরআনের সূরা আলে ইমরান (৮১–৮২) আয়াতে এ প্রসঙ্গ উল্লেখ রয়েছে।
কুরআনে নবুয়ত ও রিসালতের গুরুত্ব সম্পর্কে একাধিকবার অঙ্গীকারের কথা বলা হয়েছে, যা নবীজির শান ও মর্যাদার প্রমাণ বহন করে।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের কোটি কোটি ধর্মপ্রাণ মুসলমান নাতে রাসূল, জশনে জুলুস, কুরআন খানি, দোয়া মাহফিল ও আলোচনার মাধ্যমে এই দিবসটি পালন করে থাকেন। ইসলামের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার ও উম্মাহর মুক্তির প্রধান উপায় হলো প্রিয় নবীর সুন্নাহ অনুসরণ এবং তাঁর প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন।
কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে ঈমান, কৃতজ্ঞতা ও আনন্দ প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে:
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, আত্মশুদ্ধি, এবং নবীর জীবন ও শিক্ষাকে বাস্তব জীবনে ধারণ করার অঙ্গীকারের দিন। নবীপ্রেমের প্রকৃত প্রকাশ হলো তাঁর আদর্শে চলা ও তাঁর সুন্নাহর অনুসরণ করা।
আল্লাহর নূর নিভাতে কেউ সফল হবে না, কারণ আল্লাহ নিজেই তাঁর নূরকে পূর্ণ করবেন। নবীর প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যের মাধ্যমেই মানবজাতি দুনিয়া ও আখেরাতে মুক্তি ও কল্যাণ লাভ করতে পারে।
“ওয়া সাল্লাল্লাহু তালা আলা খাইরি খাল্কিহী ওয়া নূরে জাতিহী সাইয়েদিনা মুহাম্মাদিও ওয়া আলিহী আসহাবিহী আজমাঈন।”
✍️ লেখক: ইসলামিক গবেষক ও প্রধান নির্বাহী উপদেষ্টা – বাংলাদেশ রেজভীয়া তালিমুস্ সুন্নাহ বোর্ড ফাউন্ডেশন