গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ আর গোলা ভরা ধান। একসময় এমন প্রবাদ বাক্য থাকলেও বর্তমানে কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা।
গ্রামবাংলার সমৃদ্ধির প্রতীক ধানের গোলা এখন প্রায় বিলুপ্ত। হারিয়ে যাচ্ছে কৃষিক্ষেত ও কৃষকের ঐতিহ্য বাহী গোলাও। আগেকার দিনে কৃষকের বাড়িতে ধান মজুদ করে রাখার জন্য বাঁশ বেত ও কাদা দিয়ে গোল আকৃতি করে তৈরি করা হতো ধানের গোলা। পরবর্তী টিন দিনে বাড়ীর পাশে তৈরী করা সুন্দর ধানের গোলা।এখন ঐতিহ্যবাহী গোলা খুজলেও সহজেই মিলবেনা। বিলুপ্তির পথে ঈদগাঁও থেকে ঐতিহ্যময় এ ধান গোলা।
ঈদগাঁও উপজেলা পাঁচটি ইউনিয়নের গ্রামীন জনপদে একসময়ে ধান চাষাবাদে নিয়োজিত প্রায় বাড়ীঘরেই থাকতো চিরচেনা ধান রাখার বিশেষ মাধ্যম সে ধানের গোলা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় বতমান যুগে হরেক রকম ধান মাড়াইয়ের যন্ত্রের কারনে ধান গোলা পাড়া মহল্লা থেকে অনায়াসে হারিয়ে যেতে বসেছে। উপজেলা বিভিন্ন এলাকার হাতেগুনা কয়েকটা ছাড়া অধিকাংশ বাড়ীঘরে নেই এসব গোলা। অনেকটাই অস্তিত্বহীন বললে চলে।
রশিদ আহমদ জানান, পূর্বেকার দিনেই বেশি সংখ্যক বাড়িঘরে ধানের গোলা থাকতো। বতমান যুগে কয়েক টা বাড়ী ছাড়া এসব গোলা তেমন আর চোখে পড়েনা।এখন গোলা বইয়ে পাতায় দেখা যায়। এটি শুধু স্মৃতির পাতায় বন্দি।
আবদু শুক্কুর জানান, কৃষকের ধান এখন গোলাঘরে বা ধানের গোলায় না গিয়ে যাচ্ছে ইট-বালু ও সিমেন্ট দিয়ে তৈরি পাকা গুদাম ঘরে। ক্ষুদ্র কৃষকরা বস্তা ভর্তি করে রাখছে তাদের উৎপাদিত ধান। নুরুচ্ছফা জানান, তরুন প্রজন্মের কাছে ধানের গোলা স্মৃতিতে পরিণত হবে। হয়তো খুঁজলেও পাওয়া যাবেনা।
সংগঠক মামুন জানান, শুধু ঈদগাঁওতে নয় গ্রামবাংলা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে বাঙ্গালীর ঐতিহ্য ধানের গোলা। এই ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে সকলকে এগিয়ে আসা উচিত।