শান্তির নীড় মাটির ঘর ঈদগাঁওর গ্রামীন জনপদ থেকে বিলুপ্ত প্রায়

লেখক: আবু হেনা সগর ঈদগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

ঈদগাঁও আধুনিক ইট-পাথর ও কংক্রিটের ভিড়ে মাটির ঘর এখন বিলুপ্ত প্রায় । একসময় বাংলার প্রতি গ্রামেই দেখা যেতো মাটির তৈরি দৃষ্টিনন্দন ঘর। সাধারণ এই ঘরগুলো কেবল মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, বরং বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলা থেকে হারিয়ে গেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য মাটির ঘর। মাটির ঘরের স্থান দখল করে নিচ্ছেন ইট-পাথরের দালান। প্রায় ঋতুতেই মাটির ঘর আরামদায়ক বাসস্থান।একটু সুখের আশায় মানুষ কত কিছুই না চিন্তা করছে। গ্রাম বাংলার চির ঐতিহ্যের নিদর্শন সবুজ শ্যামল ছায়াঘেরা শান্তির নীড় ছিল মাটির ঘর। যেটি একসময় গ্রামীন জনপদের মানুষের কাছে ‘গরীবের এসি বাড়ি’ খ্যাত পরিচিত ছিল। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যের মাটির ঘর। আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে পাড়া মহল্লায়মাটির ঘরের জায়গায় তৈরি হচ্ছে নব ডিজাইনে অট্টালিকা। মানুষের অর্থনৈতিক সচ্ছলতা, প্রযুক্তির উন্নয়ন,রুচিবোধের পরিবর্তন, পারিবারিক নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নিজেদের সুরক্ষার কারণে এখন আর মাটির ঘরে থাকতে চাননা। সচ্ছল মানুষরা এখন ঝুঁকে পড়েছেন পাকা দালানের দিকে। তারপরও মানুষ যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নগরায়ণের সাথে সাথে পাকা দালান কোঠা তৈরি করছেন। সময়ের পরিবর্তনে গ্রাম বাংলার মাটির তৈরি শান্তির নীড় প্রায় বিলুপ্তির পথে।পূর্বেকার দিকে ঈদগাঁওয়ের ভোমরিয়াঘোনা, ভাদীতলা,দরগাহ পাড়া,কালিরছড়া,মোরাপাড়া সহ বিভিন্ন গ্রামে দেখা যেন নান্দনিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা মাটির ঘর। মাটির ঘরের শান্তি ইট পাথরের দালান কোঠায় খুঁজে পাওয়া যেতোনা। এখন সেই মাটির ঘর অনেকটাই হারিয়ে গেছে পাড়া মহল্লা থেকে। জানা যায়,এটেল কিংবা আঠালো মাটি কাঁদায় পরিণত করে দুই-তিন ফুট চওড়া করে দেয়াল তৈরি করা হত। ১০-১৫ ফুট উচু দেয়ালে কাঠ বা বাঁশের সিলিং তৈরি করে তার ওপর খড় অথবা টিনের ছাউনি দেয়া হতো। গৃহিনীরা মাটির দেয়ালে বিভিন্ন রকমের আল্পনা এঁকে বসত ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতেন। একসময় উপজেলা বিভিন্ন এলাকার অনেক পরিবার মাটির ঘরে বাস করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। তবে এখনো ঈদগাঁওর নানান এলাকায় মাঝে মাঝে চোখে পড়ে চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী মাটির ঘর।মুরব্বি আহমদ হোসন জানান, পুরোনো স্মৃতি ধরে রাখার মতো মাটির ঘর খুঁজলেও পাওয়া যাবেনা। যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে অনেকে ইটের ঘর তৈরি করছে, ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির ঘর।আলম নামের আরেক মুরব্বি জানান, সবসময় ঠান্ডা পরিবেশে থাকতো মাটির ঘর। এটি খুবই আরামদায়ক ঘর বটে। এসব শান্তির ঘর একটি সময় পাড়া মহল্লা ছিল। এখন ইট,বালি আর কংক্রিটের দখলে বাড়ীঘর।  আবদু শুক্কুরসহ দুয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়,আগের তুলনায় এখন মাটির ঘর নেই বললে চলে। পরবর্তী প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা মাটির ঘরের গল্প, কবিতার ছন্দে বা সাহিত্যের পাতায় দেখা ছাড়া আর কিছু করার থাকবে না। নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের কাছে শুধু নাটক, সিনেমা ও গল্প কাহিনী রয়ে যাবে।সচেতন মহল জানান, মানুষ এখন কর্মমূখী। মানুষের আয়-রোজগার বাড়ার কারণে মানুষ দিন দিন সৌখিন হয়ে উঠছে। লোকজন বিভিন্ন দেশে গিয়ে অর্থনৈতিক ভাবে স্বচ্ছল হয়েছেন।

শিরোনাম